BDLD LogoLaws Database
Search for acts, sections, or keywords...
⌘K

Search BDLD Laws

Table of Contents

  • Chapter 1: General1. ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন2. ২। সংজ্ঞা3. ৩। আইনের প্রাধান্য4. ৪। কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা5. ৫। পরিচালনা ও প্রশাসন6. ৬। পরিচালনা পর্ষদ গঠন7. ৭। পর্ষদের সভা8. ৮। চেয়ারম্যান9. ৯। পরিচালক10. ১০। চেয়ারম্যান এবং পরিচালকগণের অযোগ্যতা, অপসারণ ইত্যাদি11. ১১। কার্যাবলি12. ১২। সাধারণ ক্ষমতা13. ১৩। ভূমি ব্যবহার সম্পর্কিত ক্ষমতা14. ১৪। যোগাযোগ উন্নয়ন বিষয়ক ক্ষমতা15. ১৫। ভূমি জরিপ এবং উহার ব্যয় নির্বাহের ক্ষমতা16. ১৬। প্রবেশাধিকারের ক্ষমতা17. ১৭। সরকার কর্তৃক কর্পোরেশনের উপর ক্ষমতা ও কার্যাবলি অর্পণ বা ন্যস্তকরণ18. ১৮। ফি বা চার্জ ধার্য ও আদায়19. ১৯। পরিকল্পনা প্রণয়ন20. ২০। কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প21. ২১। কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকায় কর্পোরেশনের ক্ষমতা এবং কার্যাবলি22. ২২। কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা পরিত্যাগ23. ২৩। সমন্বিত কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি24. ২৪। সহায়ক সংগঠন25. ২৫। ভূমি অধিগ্রহণ26. ২৬। কর্পোরেশনের তহবিল27. ২৭। বাজেট28. ২৮। আদেশ অমান্য করা29. ২৯। নোটিশ অগ্রাহ্যের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশন কর্তৃক কার্যাদি সম্পাদনের ক্ষমতা30. ৩০। সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণের দণ্ড31. ৩১। ঠিকাদারকে বাধা প্রদান বা কোনো চিহ্ন অপসারণের দণ্ড32. ৩২। অননুমোদিত চাষাবাদ, ইত্যাদির দণ্ড33. ৩৩। জবর দখল বা অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের ক্ষমতা34. ৩৪। অপরাধের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের অতিরিক্ত ক্ষমতা35. ৩৫। কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইবার জন্য ক্ষতিপূরণ36. ৩৬। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ37. ৩৭। ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ38. ৩৮। বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও লেনদেন39. ৩৯। ক্ষতিপূরণ প্রদানে কর্পোরেশনের সাধারণ ক্ষমতা40. ৪০। পাওনা অর্থ আদায়41. ৪১। হিসাব ও নিরীক্ষা42. ৪২। বার্ষিক প্রতিবেদন43. ৪৩। ক্ষমতা অর্পণ44. ৪৪। জনসেবক45. ৪৫। কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি46. ৪৬। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা47. ৪৭। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা48. ৪৮। রহিতকরণ ও হেফাজত

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন আইন, ২০১৮

Act No. ৩৫ of 2018

Enacted: 2018-01-01

Chapter 1
General

1.১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 রহিতক্রমে উহার বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করিবার জন্য সার, সেচ, বীজ ও উদ্যান উন্নয়ন সংক্রান্ত কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির উৎপাদন, সংগ্রহ, মেরামত প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক; এবং যেহেতু Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 (E.P. Ordinance No. XXXVII of 1961) রহিতক্রমে উহার বিধানাবলী বিবেচনাক্রমে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :- প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন ১। (১) এই আইন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন আইন, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে। (২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

2.২। সংজ্ঞা

প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক সংজ্ঞা ২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে- (ক) ‘‘কর্পোরেশন’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন; (খ) ‘‘কর্মচারী’’ অর্থে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মচারীসহ কর্পোরেশনের সকল শ্রেণির কর্মচারীও উহার উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (গ) ‘‘কর্মসূচি’’, ‘‘কার্যক্রম’’ বা ‘‘প্রকল্প’’ অর্থ ধারা ২০ এ উল্লিখিত কোনো কর্মসূচি, কার্যক্রম বা প্রকল্প; (ঘ) ‘‘কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা’’ অর্থ কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পভুক্ত এলাকা; (ঙ) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান; (চ) ‘‘পর্ষদ’’ অর্থ কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদ; (ছ) ‘‘পরিচালক’’ অর্থ কর্পোরেশনের পরিচালক; (জ) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান; (ঝ) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; এবং (ঞ) ‘‘সদস্য’’ অর্থ পর্ষদের কোনো সদস্য।

3.৩। আইনের প্রাধান্য

প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক আইনের প্রাধান্য ৩। বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

4.৪। কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা ৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 (E.P. Ord No. XXXVII of 1961) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Agricultural Development Corporation (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। (২) কর্পোরেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত নামে উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

5.৫। পরিচালনা ও প্রশাসন

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন পরিচালনা ও প্রশাসন ৫। (১) কর্পোরেশনের পরিচালনা ও প্রশাসনের দায়িত্ব একটি পরিচালনা পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্পোরেশন যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে, পর্ষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে। (২) পর্ষদ উহার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণী বিষয়ে সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে, প্রদত্ত নির্দেশাবলি দ্বারা পরিচালিত হইবে এবং কর্পোরেশনকে প্রদত্ত কোনো নির্দেশ নীতি-নির্ধারণী কিনা তৎসম্পর্কে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

6.৬। পরিচালনা পর্ষদ গঠন

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন পরিচালনা পর্ষদ গঠন ৬। পরিচালনা পর্ষদ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :- (ক) কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন; (খ) নিবন্ধক ও মহাপরিচালক, সমবায় অধিদপ্তর; (গ) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড; (ঘ) নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল; (ঙ) মহাপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর; (চ) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট; (ছ) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট; (জ) কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের একজন অন্যূন- যুগ্ম-সচিব; (ঝ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত উক্ত বিভাগের একজন অন্যূন- যুগ্ম-সচিব; (ঞ) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক মনোনীত উক্ত বোর্ডের একজন সদস্য; (ট) কর্পোরেশনের ৫ (পাঁচ) জন পরিচালক; এবং (ঠ) কর্পোরেশনের সচিব, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

7.৭। পর্ষদের সভা

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন পর্ষদের সভা ৭। (১) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও স্থানে পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক ৩ (তিন) মাসে কমপক্ষে একবার পর্ষদের সভা অনুষ্ঠান করিতে হইবে। (২) চেয়ারম্যান পর্ষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন; তবে এতদুদ্দেশ্যে কোনো মনোনয়ন না থাকিলে, উপস্থিত সদস্যবৃন্দ কর্তৃক নির্বাচিত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। (৩) পর্ষদের সভার কোরামের জন্য চেয়ারম্যান ও পরিচালক নয় এইরূপ কমপক্ষে ১ (এক) জন সদস্যসহ কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে। (৪) পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোটাধিকার থাকিবে এবং সভায় উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে; তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারীর দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে। (৫) পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী সভার সভাপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইবে এবং সদস্যগণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে। (৬) পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী বহি আকারে রেকর্ডভুক্ত করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে। (৭) চেয়ারম্যান পর্ষদের সভা অনুষ্ঠানের তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সভার আলোচ্যসূচি, কার্যপত্র এবং কার্যবিবরণীর কপি সরকারের নিকট প্ররণ করিবেন। (৮) শুধু কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে পর্ষদের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

8.৮। চেয়ারম্যান

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন চেয়ারম্যান ৮। (১) কর্পোরেশনের একজন চেয়ারম্যান থাকিবে। (২) চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে। (৩) চেয়ারম্যান কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন এবং এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধান সাপেক্ষে কার্যসম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন। (৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি সাময়িকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।

9.৯। পরিচালক

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন পরিচালক ৯। (১) কর্পোরেশনের অনধিক ৫ (পাঁচ) জন পরিচালক থাকিবে। (২) পরিচালকগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকরির শর্তাবলি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে। (৩) পরিচালকগণ এই আইন, বিধি এবং প্রবিধান দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন। (৪) চেয়ারম্যান পরিচালকগণের দপ্তর বণ্টন করিবেন।

10.১০। চেয়ারম্যান এবং পরিচালকগণের অযোগ্যতা, অপসারণ ইত্যাদি

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন চেয়ারম্যান এবং পরিচালকগণের অযোগ্যতা, অপসারণ ইত্যাদি ১০। (১) কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যিনি- (ক) কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত; (খ) কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত; এবং (গ) কোনো চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষিত বা চাকরিচ্যুত। (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, লিখিতভাবে নির্দেশ জারি করিয়া, চেয়ারম্যান বা কোনো পরিচালককে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি- (ক) এই আইনের অধীন স্বীয় দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন বা অপারগ হন বা সরকারের বিবেচনায় স্বীয় দায়িত্ব পালন করিতে অক্ষম হন; (খ) সরকারের বিবেচনায়, তাহার পদের অমর্যাদা করেন; (গ) সরকারের লিখিত অনুমতি ব্যতীত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অংশীদারের মাধ্যমে কর্পোরেশনের সহিত বা কর্পোরেশন কর্তৃক সম্পাদিত বা কর্পোরেশনের পক্ষে কোনো চুক্তি বা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কোনো জমি বা সম্পত্তিতে, যাহা তাহার জানামতে কর্পোরেশনের কর্মকাণ্ডের ফলে উপকারের সম্ভাবনা সৃষ্ঠি করিয়াছে বা উপকারে আসিয়াছে, জ্ঞাতসারে কোনো অংশ বা স্বত্ব অর্জন করিয়াছেন বা উক্ত অংশ বা স্বত্বের মালিকানা ভোগ করিয়া আসিতেছেন; এবং (ঘ) চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক এবং পরিচালকের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান কর্তৃক ছুটি অনুমোদন ব্যতিরেকে পর্ষদের পরপর ৩ (তিন)টি সভায় অনুপস্থিত থাকেন। (৩) কোনো সরকারি কর্মচারী চেয়ারম্যান বা পরিচালক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবার পর কর্পোরেশন হইতে বদলি হইলে অথবা অবসর গ্রহণ করিলে চেয়ারম্যান বা পরিচালকের পদে বহাল থাকিতে পারিবেন না।

11.১১। কার্যাবলি

তৃতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের কার্যাবলি ও ক্ষমতা কার্যাবলি ১১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্পোরেশন নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা :- (১) বীজ ও উদ্যান উন্নয়ন সংক্রান্ত কৃষি উপকরণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ , গুদামজাতকরণ ও বিপণন এবং কৃষকদের নিকট সরাসরি বা ডিলারের মাধ্যমে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (২) কৃষি ক্ষেত্রে সেচ সুবিধা সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ; (৩) সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সার সংগ্রহ, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং কৃষকদের নিকট সরাসরি বা ডিলারের মাধ্যমে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (৪) দফা (১) হইতে (৩) এ উল্লিখিত দ্রব্য ও সেবা, সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষ্যে, কৃষকদেরকে বিনামূল্যে সাহায্য বা প্রণোদনা হিসাবে প্রদান; (৫) পাট, ডাল, দানা জাতীয় শস্য, কন্দাল ফসল, তৈলবীজ, সবজিবীজ এবং অন্যান্য শস্যবীজ সংগ্রহের লক্ষ্যে চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের মাধ্যমে উন্নতমানের ভিত্তি এবং প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (৬) কর্পোরেশনের খামারে শংকর বীজ, ব্রিডার, ভিত্তি এবং প্রত্যায়িত ও উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (৭) কর্পোরেশনের উৎপাদিত ও সংগৃহীত বীজ যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং মাননিয়ন্ত্রণ করিয়া কৃষকদের নিকট সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (৮) সেচকার্য পরিচালনা ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে লিফট, পাম্প, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন এবং অন্যান্য সেচ উপকরণ সংরক্ষণ ও সরবরাহ; (৯) সেচনালা এবং সেচ ও ফসল রক্ষ্যা অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও উন্নয়ন; (১০) সেচযন্ত্র, সেচ এলাকা, পানিসম্পদ, পানির গুণাগুণ, স্তর ও প্রাপ্যতার জরিপ পরিচালনা এবং সমীক্ষা, গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ডাটা ব্যাংক তৈরি; (১১) কৃষিকাজে পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে - (ক) ভূ-উপরিস্থ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার; (খ) ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ; (গ) খালনালা, জলাধার এবং একুইফার সংরক্ষণ, সংস্কার ও উন্নয়ন; (ঘ) উপজাত পানির সমন্বিত ব্যবহার; এবং (ঙ) পানি উদ্ভাবনমুখী ব্যবহারের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; (১২) যান্ত্রিক পদ্ধতির চাষাবাদের সুযোগ প্রদানের জন্য উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, চালনা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ; (১৩) সুষ্ঠুভাবে বীজ ও সার সংগ্রহ, উৎপাদন ও সরবরাহের লক্ষ্যে হিমাগার, বীজ হিমাগার, আর্দ্রতা নিরোধক (dehumidified) বীজ গুদাম, বীজ গুদাম, সার গুদাম, প্লান্ট বায়োটেক ল্যাবরেটরিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গবেষণাগার স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ; (১৪) জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষিক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ; (১৫) সেচ দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক পানিসম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং লাগসই ও টেকসই প্রযুক্তি গ্রহণ ও সম্প্রসারণ; (১৬) সেচযন্ত্রে বিদ্যুতায়ন এবং তৎলক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন; (১৭) সেচকার্যে ভূ-উপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ; (১৮) কৃষি গবেষণার মাধ্যমে লাগসই ও টেকসই কারিগরি কলাকৌশল উদ্ভাবন এবং ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন, নির্বাচন, প্রবর্তন ও কর্পোরেশনের নামে ছাড়করণ; (১৯) সরকারের অনুমোদনক্রমে কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতি আমদানি ও রপ্তানি এবং উক্ত উদ্দেশ্যে বিদেশি রাষ্ট্র বা সংস্থার সহিত যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সম্পাদন; (২০) পতিত জমির ব্যবহার, নূতন এলাকায় কৃষিকাজ সম্প্রসারণ, পাহাড়ি নদীনালা ও ছড়া ব্যবহার উপযোগীকরণ, খালনালা সংরক্ষণ , সম্ভাবনাময় এলাকার‌ ব্যবহার, উপযুক্ত শস্য পর্যায় ও মিশ্র খামারের মাধ্যমে পরিকল্পিত কৃষি ও কৃষিদ্রব্য বিপনন ও প্রক্রিয়াকরণ এবং সমবায় ও ব্লক খামার সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ; (২১) বীজ, সার ও সেচযন্ত্রের ব্যবহার এবং কৃষি কার্যক্রমে কৃষক ও ডিলার প্রশিক্ষণে ব্যবস্থা গ্রহণ; (২২) কৃষি ও কৃষকের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, ঋণের ব্যবস্থা এবং সমবায় সমিতি গঠনে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহ প্রদান; (২৩) কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ; (২৪) সেচযন্ত্র ও সারের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ; (২৫) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত হইলে, সরকার কর্তৃক প্রণীত শর্তাবলির ভিত্তিতে, সরকারের মালিকানাধীন বা সরকার কর্তৃক পরিচালিত বীজ উৎপাদন খামার, উদ্যান ও নার্সারি এবং প্রাণী ও মৎস্য খামার বা এতদ্বিষয়ক জাতীয় গবেষণা ও দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ ও পরিচালনা; এবং (২৬) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত কৃষি বিষয়ক অন্যান্য কার্যক্রমের দায়িত্ব গ্রহণ।

12.১২। সাধারণ ক্ষমতা

তৃতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের কার্যাবলি ও ক্ষমতা সাধারণ ক্ষমতা ১২। (১) কর্পোরেশন, এই আইনের অন্য কোনো বিধানের দ্বারা অর্পিত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,- (ক) যে কোনো কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে; (খ) যে কোনো দ্রব্য সরবরাহ করিতে পারিবে; (গ) সেবামূলক কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে; (ঘ) যে কোনো ব্যয় বহন করিতে পারিবে; (ঙ) নিজস্ব ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো প্লান্ট, যন্ত্রপাতি বা উপকরণ সংগ্রহ করিতে পারিবে; এবং (চ) যে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সম্পাদন করিতে এবং উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন ও ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। (২) কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যান্ত্রিক কৃষি সুবিধা এবং সেচের পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের হার নির্ধারণ করিতে পারিবে, যাহা সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের নিকট হইতে কর্পোরেশন কর্তৃক আদায়যোগ্য হইবে। (৩) কর্পোরেশন, প্রয়োজনে, উহার কোনো স্থাপনা, যানবাহন, যন্ত্রপাতি বা বীজ, ক্ষেত্রমত, পরিত্যক্ত, ব্যবহার অযোগ্য বা অবীজ ঘোষণা করিতে পারিবে অথবা উক্ত স্থাপনা, যানবাহন, যন্ত্রপাতি বা বীজ, ক্ষেত্রমত, বিক্রয়, ধ্বংস কিংবা অপসারণ করিতে পারিবে। (৪) কর্পোরেশন উহার কার্যাবলী সম্পাদনের প্রয়োজনে যে কোনো সম্পদ ক্রয়, ইজারা বা ভাড়ায় গ্রহণ করিতে পারিবে।

13.১৩। ভূমি ব্যবহার সম্পর্কিত ক্ষমতা

তৃতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের কার্যাবলি ও ক্ষমতা ভূমি ব্যবহার সম্পর্কিত ক্ষমতা ১৩। ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে কর্পোরেশনের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা :- (ক) ক্রয়, বিনিময়, অধিগ্রহণ বা অন্য কোনোভাবে ভূমি অর্জন; (খ) ভূমি উন্নয়নসহ ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সকল কার্য; (গ) কার্যক্রম, কর্মসূচি ও প্রকল্প দলিলে বর্ণিত ভূমি ব্যবহার বিষয়ক কার্য; (ঘ) সংরক্ষণ, বিক্রয়, বিনিময় বা অন্য কোনোভাবে ভূমি ব্যবহার; (ঙ) উপযুক্ত ভাড়ায় ও নির্দিষ্ট শর্তে চুক্তি সম্পাদনপূর্বক ইজারা প্রদান: তবে শর্ত থাকে যে, সাধারণভাবে ১ (এক) বৎসরের অধিক সময়ের জন্য কোনো ভূমি ইজারা প্রদান করা যাইবে না এবং, প্রয়োজন হইলে, কেবল এক বা একাধিক মেয়াদে উক্ত চুক্তি নবায়ন করা যাইবে।

14.১৪। যোগাযোগ উন্নয়ন বিষয়ক ক্ষমতা

তৃতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের কার্যাবলি ও ক্ষমতা যোগাযোগ উন্নয়ন বিষয়ক ক্ষমতা ১৪। কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে, সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরে ও বাহিরে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নকল্পে কর্পোরেশন নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে, যথা :- (ক) আপাতত বলবৎ অন্যান্য আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, এককভাবে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার সহিত যৌথভাবে,- (অ) যে কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়ন; এবং (আ) সড়ক ও সেতু নির্মাণ, প্রশস্তকরণ, দৃঢ়করণ বা অন্য কোনোভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ; (খ) প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত বিবেচিত হইলে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তাধীনে,- (অ) কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সংরক্ষণ বা বাস্তবায়নে ব্যয়িত মূলধনের সুদ, যদি থাকে, পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করিতে পারিবে; এবং (আ) কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সংরক্ষণ বা বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করিলে, উক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাকে, ভর্তুকি প্রদান করিতে পারিবে।

15.১৫। ভূমি জরিপ এবং উহার ব্যয় নির্বাহের ক্ষমতা

তৃতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের কার্যাবলি ও ক্ষমতা ভূমি জরিপ এবং উহার ব্যয় নির্বাহের ক্ষমতা ১৫। এই আইনের উদ্দেশ্য পুরণকল্পে কোনো ভূমি জরিপ প্রয়োজনীয় ও উপযোগী বলিয়া বিবেচিত হইলে, কর্পোরেশন,- (ক) স্বয়ং ভূমি জরিপ করিতে পারিবে; অথবা (খ) নিজস্ব অর্থায়নে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার মাধ্যমে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করিতে পারিবে।

16.১৬। প্রবেশাধিকারের ক্ষমতা

তৃতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের কার্যাবলি ও ক্ষমতা প্রবেশাধিকারের ক্ষমতা ১৬। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে চেয়ারম্যান বা তৎকর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যে কোনো ভূমিতে- (ক) প্রবেশ করিতে পারিবেন; (খ) জরিপ করিতে পারিবেন; (গ) প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের দায়িত্ব গ্রহণ করিতে পারিবেন; (ঘ) ভূমির সীমানা নির্ধারণের জন্য খুঁটি বা সীমানা চিহ্ন স্থাপন করিতে পারিবেন; (ঙ) অনভিপ্রেত কাজে বাধা প্রদান করিতে পারিবেন; (চ) পানির উৎস সন্ধানের উদ্দেশ্যে গর্ত করিতে বা খনন করিতে পারিবেন; (ছ) পানির ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে খাল বা নালা খনন ও পুনঃখনন করিতে এবং ভূগর্ভস্থ পাইপ নির্মাণ ও বাঁধ নির্মাণ করিতে পারিবেন; এবং (জ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ সম্পাদন করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, উপরি-উক্ত ক্ষমতা এমনভাবে প্রয়োগ করিতে হইবে যেন ভূমির মালিকের উপর ন্যূনতম হস্তক্ষেপ ও ক্ষতি সংঘটিত হয়।

17.১৭। সরকার কর্তৃক কর্পোরেশনের উপর ক্ষমতা ও কার্যাবলি অর্পণ বা ন্যস্তকরণ

তৃতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের কার্যাবলি ও ক্ষমতা সরকার কর্তৃক কর্পোরেশনের উপর ক্ষমতা ও কার্যাবলি অর্পণ বা ন্যস্তকরণ ১৭। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীন সরকার বা উহার অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য বা সম্পাদনযোগ্য ক্ষমতা ও কার্য সরকার, সরকারি আদেশ দ্বারা, কর্পোরেশন বা যে কোনো কর্মচারীর উপর অর্পণ বা ন্যস্ত করিতে পারিবে।

18.১৮। ফি বা চার্জ ধার্য ও আদায়

তৃতীয় অধ্যায় কর্পোরেশনের কার্যাবলি ও ক্ষমতা ফি বা চার্জ ধার্য ও আদায় ১৮। (১) কর্পোরেশন, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সেচ চার্জ ধার্য ও আদায় করিতে পারিবে। (২) কোনো পানি ব্যবহারকারী যথাসময়ে উপ-ধারা (১) এর অধীন ধার্যকৃত সেচ চার্জ প্রদানে ব্যর্থ হইলে, উক্ত সেচ চার্জের সহিত অনধিক ২০(বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাইবে। (৩) কর্পোরেশন, এই আইনের অধীন উহার কার্যাবলি সম্পাদনের ব্যয় নির্বাহের জন্য, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বা উহার কোনো অংশে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সেচ চার্জ ছাড়াও, অন্য কোনো ফি বা চার্জ ধার্য ও আদায় করিতে পারিবে।

19.১৯। পরিকল্পনা প্রণয়ন

চতুর্থ অধ্যায় পরিকল্পনা, কার্যক্রম, কর্মসূচি, প্রকল্প, ইত্যাদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ১৯। কর্পোরেশন, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, পরিকল্পনা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

20.২০। কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প

চতুর্থ অধ্যায় পরিকল্পনা, কার্যক্রম, কর্মসূচি, প্রকল্প, ইত্যাদি কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প ২০। (১) কর্পোরেশন, নির্দিষ্ট কোনো এলাকার কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুতপূর্বক উহা সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিতে হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রস্তুতকৃত প্রত্যেক কার্যক্রম, কর্মসূচি প্রকল্প প্রস্তাবে , এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকিতে হইবে,যথা:- (ক) বিস্তারিত বিবরণ এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও কৌশল; (খ) সম্ভাব্য ব্যয়; (গ) প্রত্যাশিত আয় ও সেবার বিবরণ; (ঘ) উপকারভোগীদের ভৌত ও আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির বিবরণ; এবং (ঙ) অর্জিত হইতে পারে এইরূপ লক্ষ্যমাত্রা। (৩) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নকালে উহা সংশোধনের প্রয়োজন হইলে এতদ্‌সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাব সরকারের নিকট পেশ করিতে হইবে। (৪) কর্পোরেশন প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, নিজস্ব অর্থায়নে কার্যক্রম, কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।

21.২১। কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকায় কর্পোরেশনের ক্ষমতা এবং কার্যাবলি

চতুর্থ অধ্যায় পরিকল্পনা, কার্যক্রম, কর্মসূচি, প্রকল্প, ইত্যাদি কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকায় কর্পোরেশনের ক্ষমতা এবং কার্যাবলি ২১। কর্পোরেশন, এই আইনে বর্ণিত ক্ষমতা এবং কার্যাবলি ছাড়াও, কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকায় কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প দলিলে বর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে।

22.২২। কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা পরিত্যাগ

চতুর্থ অধ্যায় পরিকল্পনা, কার্যক্রম, কর্মসূচি, প্রকল্প, ইত্যাদি কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা পরিত্যাগ ২২। কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হইবার পর কর্পোরেশন, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা পরিত্যাগ করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প এলাকা পরিত্যাগ করিবার পর উক্ত এলাকায় কর্পোরেশনের যে কোনো কাজ বা দায়িত্বের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখিবার জন্য কর্পোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

23.২৩। সমন্বিত কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি

চতুর্থ অধ্যায় পরিকল্পনা, কার্যক্রম, কর্মসূচি, প্রকল্প, ইত্যাদি সমন্বিত কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি ২৩। এই আইনের অধীন প্রস্তাবিত বা বাস্তবায়নাধীন কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের এলাকাসমূহকে যে কোনো সময়ে, কোনো সমন্বিত কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা যাইবে।

24.২৪। সহায়ক সংগঠন

চতুর্থ অধ্যায় পরিকল্পনা, কার্যক্রম, কর্মসূচি, প্রকল্প, ইত্যাদি সহায়ক সংগঠন ২৪। কর্পোরেশন উহার কোনো কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে সহায়ক সংগঠন গঠন করিতে পারিবে এবং উপযুক্ত বিবেচিত হইলে, উহার কোনো ক্ষমতা বা কার্যাবলি, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্তরূপ কোনো সহায়ক সংগঠনের উপর অর্পণ বা ন্যস্ত করিতে পারিবে।

25.২৫। ভূমি অধিগ্রহণ

চতুর্থ অধ্যায় পরিকল্পনা, কার্যক্রম, কর্মসূচি, প্রকল্প, ইত্যাদি ভূমি অধিগ্রহণ ২৫। কর্পোরেশন কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ২১ নং আইন) এর বিধান অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

26.২৬। কর্পোরেশনের তহবিল

পঞ্চম অধ্যায় তহবিল, বাজেট, ইত্যাদি কর্পোরেশনের তহবিল ২৬। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন তহবিল’’ নামে কর্পোরেশনের একটি তহবিল থাকিবে। (২) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:- (ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (খ) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ ও ভর্তুকি; (গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দেশি বা বিদেশি যে কোনো কর্তৃপক্ষ সংস্থা বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত সাহায্য বা অনুদান; (ঘ) সরকারের কর্তৃত্বাধীন প্রচলিত বন্ডের বিক্রয়লব্ধ অর্থ; (ঙ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দেশি বা বিদেশি যে কোনো উৎস হইতে কর্পোরেশন কর্তৃক সংগৃহীত ঋণ; (চ) কর্পোরেশন কর্তৃক বিক্রয়লব্ধ অর্থ, তবে উক্ত অর্থ জমার অব্যবহিত পরেই সরকারকে অবহিত করিতে হইবে; (ছ) কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে অর্জিত সকল সুদ; (জ) কর্পোরেশন কর্তৃক আদায়যোগ্য সকল ফি বা চার্জ; এবং (ঝ) কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত বা অর্জিত অন্যান্য অর্থ। (৩) তহবিলের অর্থ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো তপশিলি ব্যাংকে কর্পোরেশনের নামে জমা থাকিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে। (৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্পোরেশন, তাৎক্ষণিক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন হইবে না তহবিলের এইরূপ কোনো Trusts Act, 1882 (Act No. II of 1882) এর section 20 তে বর্ণিত যে কোনো সিকিউরিটিজ অথবা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো তপশিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী আমানতরূপে বিনিয়োগ করিতে পারিবে। (৫) এই আইনের অধীন কর্পোরেশনের কার্যাবলি সম্পাদন এবং চেয়ারম্যান, পরিচালক ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও আনুষঙ্গিক সকল ব্যয় তহবিল হইতে নির্বাহ হইবে। ব্যাখ্যা। এই ধারায় উল্লিখিত ‘‘ Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. 127 of 1972 এর Article (2)(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank।

27.২৭। বাজেট

পঞ্চম অধ্যায় তহবিল, বাজেট, ইত্যাদি বাজেট ২৭। কর্পোরেশন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, প্রতি অর্থ বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় এবং উক্ত অর্থ-বৎসরে, সরকারের নিকট হইতে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহা উল্লেখ করিয়া একটি বাজেট বিবরণী সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করিবে।

28.২৮। আদেশ অমান্য করা

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি আদেশ অমান্য করা ২৮। কোনো ব্যক্তি, এই আইন বা এই আইনের অধীন কোনো নোটিশ দ্বারা প্রদত্ত, কোনো আদেশ অমান্য করিলে অথবা পালন করিতে ব্যর্থ হইলে এবং উহা এই আইনের অন্য কোনো ধারার অধীন দণ্ডযোগ্য অপরাধ না হইলে, উক্তরূপ অমান্য বা ব্যর্থতার জন্য তাহার উপর অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাইবে: তবে শর্ত থাকে যে, পুনঃপুন অমান্য বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সর্বশেষ জরিমানা প্রদানের তারিখের পর প্রত্যেক দিবসের জন্য অতিরিক্ত ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা হারে জরিমানা আরোপিত হইবে।

29.২৯। নোটিশ অগ্রাহ্যের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশন কর্তৃক কার্যাদি সম্পাদনের ক্ষমতা

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি নোটিশ অগ্রাহ্যের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশন কর্তৃক কার্যাদি সম্পাদনের ক্ষমতা ২৯। কর্পোরেশন, এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কার্য সম্পাদন করিতে অথবা কোনো কাজ করা হইতে বিরত থাকিবার জন্য নোটিশ প্রদান করিলে এবং উক্ত ব্যক্তি নোটিশ অনুযায়ী উক্ত কাজ করিতে বা করা হইতে বিরত থাকিতে ব্যর্থ হইলে, কর্পোরেশন উক্তরূপ কাজের বাস্তবায়ন, ব্যবস্থা গ্রহণ বা সম্পাদন করিতে পারিবে এবং উহাতে ব্যয়িত সকল অর্থ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে।

30.৩০। সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণের দণ্ড

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণের দণ্ড ৩০। যদি কোনো ব্যক্তি বৈধ কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে- (ক) কর্পোরেশনের কোনো ভূমি বা স্থাপনা রক্ষার্থে নির্মিত কোনো সীমানা প্রাচীর বা বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণ করেন, অথবা (খ) কর্পোরেশনের দালান, দেওয়াল বা অন্য কোনো বস্তুর ভাররক্ষার্থে ঠেস দেওয়ার জন্য স্থাপিত কোনো খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণ করেন, অথবা (গ) কোনো কার্য সম্পাদনের প্রয়োজনে কর্পোরেশন কর্তৃক খননকৃত বা ভাঙ্গিয়া ফেলা কোনো সড়ক বা ভূমিতে স্থাপিত কোনো বাতি নিভাইয়া ফেলেন, অথবা (ঘ) কর্পোরেশনের আদেশ লঙ্ঘন করিয়া, যাতায়াতের পথ বন্ধকরণ সংক্রান্ত, কর্পোরেশন কর্তৃক স্থাপিত কোনো খিল, চেইন বা খুঁটি অপসারণ করেন, অথবা (ঙ) কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত কোনো অবকাঠামো বা স্থাপনা এবং কর্পোরেশনের ভূমি বা অন্য কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাণ্ডে বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

31.৩১। ঠিকাদারকে বাধা প্রদান বা কোনো চিহ্ন অপসারণের দণ্ড

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি ঠিকাদারকে বাধা প্রদান বা কোনো চিহ্ন অপসারণের দণ্ড ৩১। যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন- (ক) নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদন বা বাস্তবায়নের জন্য কর্পোরেশন যে ব্যক্তির সহিত চুক্তি বা অঙ্গিকারনামা সম্পাদন করিয়াছে, সেই ব্যক্তির প্রতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা তাহাকে নিপীড়ন করেন, অথবা (খ) অনুমোদিত কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো লেভেল বা দিক নির্দেশ করিবার লক্ষ্যে কর্পোরেশন কর্তৃক স্থাপিত কোনো চিহ্ন অপসারণরন করেন- তাহা হইলে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

32.৩২। অননুমোদিত চাষাবাদ, ইত্যাদির দণ্ড

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি অননুমোদিত চাষাবাদ, ইত্যাদির দণ্ড ৩২। কর্পোরেশনের লিখিত অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তি যদি- (ক) কর্পোরেশনের মালিকানাধীন বা কর্পোরেশনের দখলে রহিয়াছে এইরূপ কোনো ভূমি চাষাবাদ করেন বা চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করেন, অথবা (খ) উক্ত ভূমির ওপর কোনো ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করেন বা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, অথবা (গ) উক্ত ভূমির ওপর দণ্ডায়মান বৃক্ষরাজি কর্তন করেন বা অন্য কোনোভাবে বিনষ্ট করেন, অথবা (ঘ) উক্ত ভূমি অন্য কোনোভাবে জবর দখল করেন, অথবা (ঙ) উক্ত ভূমিতে কোনো খনন কাজ করেন বা পানির নালা নির্মাণ করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

33.৩৩। জবর দখল বা অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের ক্ষমতা

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি জবর দখল বা অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের ক্ষমতা ৩৩। কার্যক্রম, কর্মসূচি বা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কোনো ভূমি বা কর্পোরেশনের মালিকানাধীন বা কর্পোরেশনের নিকট ন্যস্ত কোনো ভূমির মালিকানা বা অধিকার ভোগ করেন না এমন কোনো ব্যক্তি উক্ত ভূমির দখল গ্রহণ করিয়াছেন বা দখল গ্রহণের চেষ্টা করিতেছেন বলিয়া চেয়ারম্যান নিশ্চিত হইলে, তিনি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করিয়া উক্ত ভূমিতে পুনঃপ্রবেশ করিতে পারিবেন এবং কর্পোরেশনের পক্ষে উক্ত ভূমি পুনর্দখল করিতে এবং কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ প্রদান ব্যতিরেকে, উক্ত ভূমির সকল শস্য, বৃক্ষ এবং ভবন ও স্থাপনার দখল গ্রহণ করিতে পারিবেন।

34.৩৪। অপরাধের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের অতিরিক্ত ক্ষমতা

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি অপরাধের প্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের অতিরিক্ত ক্ষমতা ৩৪। ধারা ৩২ এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে মর্মে নিশ্চিত হইলে, কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে উক্ত ধারার অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অথবা উক্ত ধারার অধীন সংশ্লিষ্ট অপরাধী দণ্ডপ্রাপ্ত হইবার পর- (ক) ধারা ৩২ এর দফা (ক) এর অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে, এই আইনের বিধান লঙ্ঘনক্রমে যে ফসল চাষাবাদ করা হইয়াছে ও বাড়িয়া উঠিতেছে উহা বাজেয়াপ্ত করিতে পারিবে অথবা, ফসল কাটিয়া ফেলা হইলে, সংশ্লিষ্ট অপরাধীর নিকট হইতে ফসলের মূল্য বাবদ নিরূপিত অর্থ আদায় করিতে পারিবে, (খ) ধারা ৩২ এর দফা (গ) এর অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বৃক্ষরাজির মূল্য বাবদ নিরূপিত অর্থ আদায় করিতে পারিবে, এবং (গ) ধারা ৩২ এর দফা (খ), (ঘ) বা (ঙ) এর অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভবন বা স্থাপনা ধ্বংস করিতে পারিবে অথবা জবর দখল অপসারণ করিতে পারিবে অথবা খননকৃত ভূমি বা পানির নালা ভরাট করিতে পারিবে এবং দায়ী ব্যক্তির নিকট হইতে সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয়িত অর্থ আদায় করিতে পারিবে।

35.৩৫। কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইবার জন্য ক্ষতিপূরণ

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইবার জন্য ক্ষতিপূরণ ৩৫। (১) কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো কাজ করিবার বা না করিবার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে এবং সংশ্লিষ্ট কাজ করিবার বা না করিবার কারণে কর্পোরেশনের কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে আদালত, দণ্ড প্রদানের পাশাপাশি, কর্পোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে, কর্পোরেশনকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তিকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক স্বেচ্ছায় প্রদত্ত না হইলে, উক্ত অর্থ আদালত কর্তৃক পরোয়ানার মাধ্যমে এমনভাবে আদায় করা যাইবে যেন উহা সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে অর্থদণ্ড হিসাবে আদায় করা হইতেছে।

36.৩৬। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ৩৬। চেয়ারম্যান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কৃত কোনো অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।

37.৩৭। ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ

ষষ্ঠ অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ ৩৭। এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, এই আইনে বর্ণিত যে কোনো অপরাধের তদন্ত, অভিযোগ দায়ের, বিচার, আপিলসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) প্রযোজ্য হইবে।

38.৩৮। বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও লেনদেন

সপ্তম অধ্যায় সম্পূরক বিধানাবলি বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও লেনদেন ৩৮। কর্পোরেশন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে যে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা সংগঠনের সহিত বাণিজ্যিক লেনদেন করিতে পারিবে।

39.৩৯। ক্ষতিপূরণ প্রদানে কর্পোরেশনের সাধারণ ক্ষমতা

সপ্তম অধ্যায় সম্পূরক বিধানাবলি ক্ষতিপূরণ প্রদানে কর্পোরেশনের সাধারণ ক্ষমতা ৩৯। কর্পোরেশন, চেয়ারম্যান, কোনো পরিচালক বা কোনো কর্মচারী কর্তৃক এই আইনে সুস্পষ্ট বিধান নাই এইরূপ কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে, কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে পারিবে।

40.৪০। পাওনা অর্থ আদায়

সপ্তম অধ্যায় সম্পূরক বিধানাবলি পাওনা অর্থ আদায় ৪০। এই আইন অথবা এই আইনের বিধান অনুযায়ী সম্পাদিত কোনো চুক্তির অধীনে কোনো ব্যক্তির নিকট কর্পোরেশনের কোনো অর্থ পাওনা থাকিলে উহা সরকারি দাবি হিসাবে Public Demands Recovery Act, 1913 (Bengal Act No. III of 1913) এর বিধান অনুসারে আদায়যোগ্য হইবে।

41.৪১। হিসাব ও নিরীক্ষা

অষ্টম অধ্যায় হিসাব, নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন হিসাব ও নিরীক্ষা ৪১। (১) কর্পোরেশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে। (২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর কর্পোরেশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কর্পোরেশনের নিকট পেশ করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশনের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালক বা যে কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

42.৪২। বার্ষিক প্রতিবেদন

অষ্টম অধ্যায় হিসাব, নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন বার্ষিক প্রতিবেদন ৪২। (১) কর্পোরেশন প্রত্যেক অর্থ-বৎসর শেষে, যথাশীঘ্র সম্ভব, উহার এবং সহায়ক প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক উক্ত অর্থ-বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবেন। (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার কর্পোরেশনের নিকট, যে কোনো সময়, যে কোনো ধরনের বিবরণী, হিসাব, পরিসংখ্যান এবং কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত তথ্য বা উক্তরূপ যে কোনো বিষয় সম্পর্কিত প্রতিবেদন যাচনা করিতে পারিবে এবং কর্পোরেশন অনতিবিলম্বে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।

43.৪৩। ক্ষমতা অর্পণ

নবম অধ্যায় বিবিধ ক্ষমতা অর্পণ ৪৩। (১) পর্ষদ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন উহার যে কোনো ক্ষমতা চেয়ারম্যান বা কোনো পরিচালক বা কোনো কর্মচারীর উপর অর্পণ করিতে পারিবে। (২) চেয়ারম্যান এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন তাহার যে কোনো ক্ষমতা কোনো পরিচালক বা কোনো কর্মচারীর উপর অর্পণ করিতে পারিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত কোনো ক্ষমতা তিনি অন্য কোনো ব্যক্তিকে অর্পণ করিতে পারিবেন না।

44.৪৪। জনসেবক

নবম অধ্যায় বিবিধ জনসেবক ৪৪। চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালক এবং কর্পোরেশনের কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860) এর section 21 G public servant (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই public servant (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন।

45.৪৫। কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি

নবম অধ্যায় বিবিধ কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি ৪৫। (১) কর্পোরেশন উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে। (২) কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

46.৪৬। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

নবম অধ্যায় বিবিধ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ৪৬। সরকার, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

47.৪৭। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

নবম অধ্যায় বিবিধ প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা ৪৭। কর্পোরেশন এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত অসামঞ্জস্য না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

48.৪৮। রহিতকরণ ও হেফাজত

নবম অধ্যায় বিবিধ রহিতকরণ ও হেফাজত ৪৮। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Bangladesh Agricultural Development Corporation Ordinance, 1961 (E.P. Ord. No. XXXVII of 1961), অতঃপর উক্ত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, রহিত হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত Ordinance এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Agricultural Development Corporation এর (ক) কৃত সকল কাজ-কর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইবে বলিয়া গণ্য হইবে; (খ) সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ কার্যক্রম, কর্মসূচি ও প্রকল্প এবং সকল প্রকার দাবি ও অধিকার কর্পোরেশনের সম্পত্তি, অর্থ, কার্যক্রম, কর্মসূচি ও প্রকল্প এবং দাবি ও অধিকার হিসাবে গণ্য হইবে; (গ) সকল ঋণ ও দায়-দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা বা উহার পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি কর্পোরেশনের ঋণ ও দায়-দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা উহার বা পক্ষে বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে; (ঘ) রিরুদ্ধে বা তৎকর্তৃক দায়েরকৃত কোনো মামলা, গৃহীত কার্যধারা বা সূচিত যে কোনো কার্যক্রম অনিষ্পন্ন থাকিলে, উহা এমনভাবে নিষ্পন্ন হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে বা তৎকর্তৃক দায়েরকৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে; (ঙ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল বিধি, প্রবিধান, আদেশ, নির্দেশ, নীতিমালা বা অন্য কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট, এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন নূতনভাবে প্রণীত বা জারি না হওয়া পর্যন্ত অথবা বিলুপ্ত না করা পর্যন্ত, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, পূর্বের ন্যায় চলমান, অব্যাহত ও কার্যকর থাকিবে; (চ) Board of Directors, যদি থাকে, এর কার্যক্রম, বিদ্যমান মেয়াদ অবসানের পূর্বে বিলুপ্ত না হইলে অথবা এই আইনের অধীন পর্ষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকিবে; (ছ) কর্মচারীগণ এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যে শর্তাধীনে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইন বা তদধীন প্রণীত প্রবিধান দ্বারা পরিবর্তিত হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে কর্পোরেশনের চাকরিতে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পূর্বের নিয়মে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্ত হইবেন; এবং (জ) কোনো সম্পত্তি নির্দিষ্ট কোনো শর্তে এবং নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদের জন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার নিকট ইজারা বা অন্য কোনোভাবে বরাদ্দ প্রদান করা হইয়া থাকিলে, উক্ত মেয়াদ অবসান না হওয়া পর্যন্ত, উক্ত সম্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট ইজারা গ্রহীতা বা বরাদ্দ গ্রহীতার বৈধ দাবি ও অধিকার উক্ত শর্তাধীনে অব্যাহত থাকিবে।

© 2026 Bangladesh Law Digest (BDLD). This is a convenience mirror. For official texts, refer to the Bangladesh Gazette.