BDLD LogoLaws Database
Search for acts, sections, or keywords...
⌘K

Search BDLD Laws

Table of Contents

  • Chapter 1: General1. ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন2. ২। সংজ্ঞা3. ৩। আইনের প্রাধান্য4. ৪। কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা5. ৫। কর্তৃপক্ষের কার্যালয়6. ৬। কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি7. ৭। সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন8. ৮। পরিচালনা বোর্ড গঠন9. ৯। বোর্ডের সভা, ইত্যাদি10. ১০। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান11. ১১। চেয়ারম্যানের দায়-দায়িত্ব12. ১২। কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রার13. ১৩। কর্মচারী নিয়োগ14. ১৪। উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি নির্ধারণ, ইত্যাদি15. ১৫। উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ নিবন্ধন, ইত্যাদি16. ১৬। নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর যোগ্যতা, ইত্যাদি17. ১৭। নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর অযোগ্যতা18. ১৮। আবেদনের অগ্রগণ্যতা19. ১৯। উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণের শর্তাবলি, ইত্যাদি20. ২০। সংরক্ষিত জাতের নামকরণ, ইত্যাদি21. ২১। প্রজননবিদের অধিকার, ইত্যাদি22. ২২। প্রজননবিদের অধিকারের মেয়াদ, অধিকার স্থগিত, বাতিল, ইত্যাদি23. ২৩। কৃষক অধিকার24. ২৪। ব্যক্তি, সমিতি বা প্রতিষ্ঠানের অধিকার, ইত্যাদি25. ২৫। স্বীকৃতিসনদ, পুরস্কার, ইত্যাদি26. ২৬। অপরাধ ও দণ্ড27. ২৭। কোম্পানি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ28. ২৮। তদন্ত ও বিচার29. ২৯। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ30. ৩০। অপরাধের অ-আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা31. ৩১। ক্ষতিপূরণ32. ৩২। কর্তৃপক্ষের তহবিল33. ৩৩। ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা34. ৩৪। বাজেট35. ৩৫। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা36. ৩৬। বার্ষিক প্রতিবেদন37. ৩৭। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।38. ৩৮। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা39. ৩৯। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ।

উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ আইন, ২০১৯

Act No. ৬ of 2019

Enacted: 2019-01-01

Chapter 1
General

1.১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ, নিবন্ধন, প্রজননবিদ ও কৃষকের অধিকার সংরক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন যেহেতু কৃষি উন্নয়ন ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষক ও প্রজননবিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যেহেতু উদ্ভিদের গবেষণা, জাতের উন্নয়ন, বীজ উৎপাদন, ব্যবহার, বিতরণ, বিপণন, রপ্তানি এবং প্রজনন ও জাত সংরক্ষণের সুফল কৃষকদের নিকট কার্যকরভাবে পৌঁছাইয়া দেওয়ার জন্য উৎসাহ, নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন; যেহেতু সরকারি এবং বেসরকারি খাতে জাত উন্নয়ন ও প্রজনন কর্মকাণ্ডে প্রজননবিদ ও কৃষকের উদ্ভিদের কৌলিসম্পদ সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করা সমীচীন; যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ( World Trade Organization ) এর সদস্য এবং বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয়াবলির মেধা স্বত্বাধিকার ( Trade Related Aspects of Intellectual Property Rights ) সংক্রান্ত চুক্তি মানিয়া চলিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ; এবং যেহেতু জীববৈচিত্র্য কনভেনশন ( Convention on Biological Diversity ) এবং খাদ্য ও কৃষির জন্য উদ্ভিদের কৌলিসম্পদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি মানিয়া চলিতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ; এবং যেহেতু উপরি-উক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনাপূর্বক একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ, নিবন্ধন, প্রজননবিদ ও কৃষকের অধিকার সংরক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ- প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক, ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন ১।   (১) এই আইন উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ আইন, ২০১৯ নামে অভিহিত হইবে। (২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেই তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।

2.২। সংজ্ঞা

প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক, ইত্যাদি সংজ্ঞা ২।  বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,- (১)  “অত্যাবশ্যকীয়ভাবে উদ্ভূত জাত ( Essentially Derived Variety )’’ অর্থ এমন একটি জাত যাহা অন্য একটি প্রাথমিক ( primary ) জাত হইতে বংশ বিস্তার বা রূপান্তরের মাধ্যমে উৎপন্ন এবং যাহাতে উক্ত প্রাথমিক জাতের জেনোটাইপ বা জেনোটাইপসমূহের মিলনের ফলে নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, যথাঃ- (অ) উৎপন্ন জাতটি প্রাথমিক জাত হইতে স্পষ্টভাবে পৃথক বা ভিন্ন; এবং (আ) উৎপন্ন জাতটির অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রাথমিক জাতের সহিত সংগতিপূর্ণ; (২)  “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ; (৩)  “কৃষক” অর্থ বাংলাদেশে বসবাসকারী এমন ব্যক্তি যিনি- (ক) নিজের জমিতে বা অন্যের জমিতে বা চাষোপযোগী যে কোনো স্থানে শস্য বা উদ্ভিদের চাষাবাদ করিয়া থাকেন; বা (খ) অন্য লোক নিয়োগ করিয়া সরাসরি চাষাবাদ কার্যের তদারক করিয়া থাকেন; বা (গ) এককভাবে বা যৌথভাবে উত্তম বৈশিষ্ট্যাবলি শনাক্তকরণ ও নির্বাচনের মাধ্যমে বন্য প্রজাতি বা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ও প্রচলিত জাতসমূহ অর্থাৎ দীর্ঘকালযাবৎ চাষাবাদ হইতেছে এইরূপ আদিজাত ( Landraces ) বা কৃষকের জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করেন; (৪) “কৃষক অধিকার” অর্থ ধারা ২৩ এ বর্ণিত অধিকার; (৫) ‘কৃষক জাত’ অর্থ- (ক) যে জাত কৃষক কর্তৃক উদ্ভাবিত এবং যাহা কৃষক নিজ জমিতে চাষ করিয়া আসিতেছে, এবং (খ) যে জাত কোনো বন্য প্রজাতি ( wild variety ) এর সহিত সম্পর্কিত অথবা আদিজাত যাহার উদ্ভাবক অজ্ঞাত কিন্তু উক্ত জাত সম্পর্কে কৃষকের জ্ঞান রহিয়াছে; (৬) “কৌলিসম্পদ” অর্থ উদ্ভিদের সম্পূর্ণ, অংশবিশেষ বা বংশ বিস্তারক্ষম অংশ যেমন- বীজ, অঙ্গজ অংশ, কলা বা কোষসমষ্টি (Tissue) ও জীবকোষ (Cell) জিন (Gene) ও জেনোমিক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড অনুক্রম; কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির সকল প্রকরণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; (৭) “কোম্পানি” অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এ সংজ্ঞায়িত কোনো কোম্পানি; (৮) “চেয়ারম্যান” অর্থ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান; (৯) “জাত” অর্থ বীজ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৩) এ উল্লিখিত জাত; (১০) “জাতীয় বীজ বোর্ড” অর্থ বীজ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬ নং আ্নি) এর ধারা ৩ এর অধীন গঠিত জাতীয় বীজ বোর্ড; (১১) “জিএমও (Genetically Modified Organism)” অর্থ কৌলিগতভাবে রূপান্তরিত প্রাণসত্তা (Organism) যাহা মলিকুলার পর্যায়ে জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত এবং নূতন ধরনের বৈশিষ্ট্য উৎপন্ন করিতে বা নূতন বৃত্তির প্রকাশ ঘটাইতে সক্ষম; (১২) “নামকরণ” অর্থ সংশ্লিষ্ট জাত বা উহার বীজ বা বংশ বিস্তারক্ষম অংশের নাম যাহা যে কোনো ভাষায় লিখিত বর্ণসমষ্টি বা যুগপৎভাবে বর্ণসমষ্টি ও সংখ্যা দ্বারা প্রকাশিত; (১৩) “নিবন্ধন বহি” অর্থ ধারা ১৫ এ উল্লিখিত নিবন্ধন বহি; (১৪) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি বা, ক্ষেত্রমত, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত; (১৫) “প্রজননবিদ” অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি- (ক) এমন একটি উদ্ভিদের জাত প্রজনন বা উদ্ভাবন করিয়াছেন যাহা বাংলাদেশে সমসাময়িককালে নূতন; (খ)   দফা (ক) এ উল্লিখিত ব্যক্তির নিয়োগকারী বা যিনি তাহাকে জাত প্রজনন বা উদ্ভাবন কার্যে নিয়োগদান করিয়াছেন; বা (গ)   দফা (ক) বা (খ) এ উল্লিখিত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উত্তরসূরী; (১৬) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান; (১৭) “বীজ” অর্থ বীজ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১২) তে উল্লিখিত বীজ; (১৮) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি: (১৯) “বোর্ড” অর্থ এই আইনের ধারা ৮ এর অধীন গঠিত পরিচালনা বোর্ড; (২০) ‘‘রেজিস্ট্রার’’ অর্থ ধারা ১২ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ; এবং (২১) ‘‘সংরক্ষিত জাত’’ অর্থ ধারা ১৫ এর বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত উদ্ভিদের জাত।

3.৩। আইনের প্রাধান্য

আইনের প্রাধান্য ৩।  আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

4.৪। কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা ৪। ( ১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে। (২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা নিজ নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

5.৫। কর্তৃপক্ষের কার্যালয়

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের কার্যালয় ৫। (১) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থাকিবে। (২) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

6.৬। কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি ৬।  এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলি হইবে নিম্নরুপ, যথা :- (ক)  উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি নির্ধারণ, প্রকাশ ও প্রচার ; (খ)  উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণের জন্য নিবন্ধন, নিবন্ধন সনদ প্রদান এবং এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের বিধান লঙ্ঘনের জন্য নিবন্ধন বাতিল ; (গ)  উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ আবেদনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ ; (ঘ) উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট তথ্যের আদান-প্রদান এবং অধিকতর উন্নত পদ্ধতিতে উদ্ভিদের জাত পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা স্থাপন ; (ঙ) প্রজননবিদের অধিকার, অধিকারের মেয়াদ নির্ধারণ, অধিকার সীমিতকরণ, বা ক্ষেত্রমত, অধিকার স্থগিত বা বাতিলকরণ বা অনুরূপ বিষয়াদির পদ্ধতি নিরূপণ ও উহার বাস্তবায়ন ; (চ) কৃষক, ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রজননবিদের অধিকার কার্যকর করিতে পদক্ষেপ গ্রহণ ; (ছ) জাত উদ্ভাবন ও উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সনদ ও পুরস্কার প্রদান ; (জ) আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়মিতভাবে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ; (ঝ) সার্বিক কার্যক্রমের বিবরণ সম্বলিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও সরকারের নিকট উহা উপস্থাপন ; (ঞ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, আনুষঙ্গিক সকল এবং উপরে বর্ণিত কার্যাদির সম্পূরক ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য কার্যসম্পাদন ; এবং (ট) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, কর্তৃপক্ষের উপর অর্পিত অন্য যে কোনো দায়িত্ব ও কার্যসম্পাদন।

7.৭। সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন ৭।  কর্তৃপক্ষের সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং কর্তৃপক্ষ যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে বোর্ডও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিতে পারিবে।

8.৮। পরিচালনা বোর্ড গঠন

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি পরিচালনা বোর্ড গঠন ৮।  (১) কর্তৃপক্ষের একটি পরিচালনা বোর্ড থাকিবে, যাহা নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা :- (ক) চেয়ারম্যান, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন ; (খ) কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত উক্ত মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অনুবিভাগের অন্যূন উপসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি ; (গ)  পরিচালক (সরেজমিন উইং), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ; (ঘ) সদস্য পরিচালক (শস্য), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল; (ঙ) মহাব্যবস্থাপক (বীজ), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ; (চ) পরিচালক (গবেষণা), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ; (ছ) পরিচালক (গবেষণা), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ; (জ) পরিচালক (গবেষণা), বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ; (ঝ) পরিচালক (গবেষণা), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ; (ঞ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত উদ্ভিদের জাত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অধ্যাপক ; (ট) পরিচালক, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি ; (ঠ) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি কর্তৃক মনোনীত অন্যূন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি ; (ড) বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম কর্তৃক মনোনীত অন্যূন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি ; (ঢ)  প্রধান বীজতত্ত্ববিদ, কৃষি মন্ত্রণালয় ; (ণ)  বাংলাদেশ সীড এসোসিয়েশন কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি ; (ত)  বাংলাদেশ কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন সমিতি কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি ; এবং (থ)  রেজিস্ট্রার, উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ, যিনি উহার সদস্য সচিবও হইবেন। (২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঞ), (ণ) এবং (ত) এ উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে সদস্য পদে বহাল থাকিবেন : তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, জনস্বার্থে, উক্ত মেয়াদ সমাপ্ত হইবার পূর্বে, কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে, কোনো মনোনীত সদস্যকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে এবং মনোনীত সদস্যগণও যে কোনো সময় চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন ।

9.৯। বোর্ডের সভা, ইত্যাদি

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি বোর্ডের সভা, ইত্যাদি ৯।  (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। (২) চেয়ারম্যান বোর্ডের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সরকার কর্তৃক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন, তবে উক্তরূপ সদস্য নিযুক্ত না হইয়া থাকিলে, বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। (৩) প্রতি ৬ (ছয়) মাসে বোর্ডের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের নোটিশে বোর্ডের সভা আহবান করা যাইবে। (৪) বোর্ডের সভা চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে এবং তৎকর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে সদস্য সচিব কর্তৃক আহূত হইবে। (৫) বোর্ডের মোট সদস্যের অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতেই সভার কোরাম হইবে, তবে মুলতবি সভার ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবে না। (৬) বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে, সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে। (৭) শুধু কোনো সদস্য পদের শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে কোনো ত্রুটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা এতদ্বিষয়ে কোনো প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

10.১০। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ১০। (১) কর্তৃপক্ষের একজন চেয়ারম্যান থাকিবে। (২) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক এবং প্রধান নির্বাহী হইবেন। (৩) চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির মেয়াদ ও শর্তাবলি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। (৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোনো সদস্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন।

11.১১। চেয়ারম্যানের দায়-দায়িত্ব

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি চেয়ারম্যানের দায়-দায়িত্ব ১১।  (১) চেয়ারম্যান এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের বিধান অনুসারে নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব পালনের জন্য দায়ী থাকিবেন, যথা : - (ক) কর্তৃপক্ষের সকল কার্যক্রম সূচারুরূপে সম্পন্ন করিবার উদ্দেশ্য এই আইনের অধীন অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ; (খ) কর্তৃপক্ষের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সকল দায়িত্ব পালন; (গ) কর্তৃপক্ষের সকল কর্মচারী ও উহাদের কার্যক্রমের উপর নিয়ন্ত্রণ; (ঘ) কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন; এবং (ঙ) বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, তাহার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন। (২) চেয়ারম্যান তাহার অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের নিকট দায়ী থাকিবেন।

12.১২। কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রার

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রার ১২। (১) কর্তৃপক্ষের একজন রেজিস্ট্রার থাকিবে, যিনি সরকারের উপসচিব বা সমমর্যাদাধারীদের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন। (২) রেজিস্ট্রার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব ও কার্য সম্পাদন করিবেন এবং তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যক্রমের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট দায়ী থাকিবেন।

13.১৩। কর্মচারী নিয়োগ

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, কার্যাবলি, বোর্ড, ইত্যাদি কর্মচারী নিয়োগ ১৩। (১) কর্তৃপক্ষ উাহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী এবং, সময় সময়, সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সাধারণ ও বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে। (২) কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

14.১৪। উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি নির্ধারণ, ইত্যাদি

তৃতীয় অধ্যায় উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি, জাত নিবন্ধন, সংরক্ষণ, ইত্যাদি উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি নির্ধারণ, ইত্যাদি ১৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি নির্ধারণ করিতে পারিবে। (২) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করিয়া সংরক্ষণ এবং ওয়েব সাইটে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘উদ্ভিদের গণ ( Plant genus ) ’ বলিতে এমন উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ বা উদ্ভিদের জাত বুঝাইবে যাহা কৃষি, খাদ্য, ঔষধি, পুষ্টি ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যবহার উপযোগী এবং অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান।

15.১৫। উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ নিবন্ধন, ইত্যাদি

তৃতীয় অধ্যায় উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি, জাত নিবন্ধন, সংরক্ষণ, ইত্যাদি উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ নিবন্ধন, ইত্যাদি ১৫।  (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো প্রজননবিদ কর্তৃক উদ্ভাবিত জাত অত্যাবশ্যকীয়ভাবে উদ্ভূত জাত বা কৃষকের জাত ও জিএমও সংরক্ষিত জাত হিসাবে নিবন্ধন করিতে হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সংরক্ষিত জাত হিসাবে নিবন্ধনের জন্য, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে, কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করিতে হইবে। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদনপত্রের সহিত বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধ করিতে হইবে এবং নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত জাতের কারিগরি ও প্রজনন পদ্ধতির বিবরণ দাখিল করিতে হইবে। (৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদন যথাযথভাবে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, পরীক্ষা করিতে হইবে। (৫) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৪) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদন পরীক্ষা করিবার পর যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হইলে উদ্ভিদের সংরক্ষিত জাত হিসাবে নিবন্ধন সনদ প্রদান করিবে। (৬) এই ধারার অধীন নিবন্ধিত সংরক্ষিত জাত প্রয়োজনীয় তথ্যসহ একটি নিবন্ধন বহিতে ম্যানুয়াল এবং ডিজিটাল উভয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিতে হইবে। (৭) কোনো ব্যক্তি কোনো সংরক্ষিত জাত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করিতে চাহিলে তাহাকে কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করিতে হইবে এবং কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে উক্ত তথ্য প্রদান করিতে পারিবে। (৮) কোনো প্রজননবিদ যদি উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত নিবন্ধন বহিতে তাহার নামে নিবন্ধিত সংরক্ষিত জাতের তথ্য গোপন রাখিতে চাহেন, তাহা হইলে তাহাকে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে এবং কর্তৃপক্ষ, যুক্তিযুক্ত মনে করিলে, উহা গোপনীয় হিসাবে চিহ্নিত করিতে পারিবে। (৯) উপ-ধারা (৬) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিবন্ধন বহিতে সংরক্ষিত কোনো তথ্য উপ-ধারা (৮) এর অধীন গোপনীয় হিসাবে চিহ্নিত করা হইলে উক্ত তথ্য কোনো ব্যক্তির অনুকূলে সরবরাহ করা যাইবে না। (১০) এই ধারার অধীন সংরক্ষিত জাতের নিবন্ধনপ্রাপ্ত ব্যক্তি যে কোনো সময় কর্তৃপক্ষের বরাবর লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তাঁহার নিবন্ধন প্রত্যাহার করিতে পারিবে।

16.১৬। নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর যোগ্যতা, ইত্যাদি

তৃতীয় অধ্যায় উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি, জাত নিবন্ধন, সংরক্ষণ, ইত্যাদি নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর যোগ্যতা, ইত্যাদি ১৬। (১) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণের জন্য আবেদনের যোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে, যথা : - (ক)   বাংলাদেশি নাগরিক বা আইনানুগ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; (খ)   অন্য কোনো দেশের নাগরিক বা আইনানুগ ব্যক্তি বা এমন কোনো প্রতিষ্ঠান যাহার বাংলাদেশে কার্যালয় রহিয়াছে; (গ)   বাংলাদেশের নাগরিক বা আইনানুগ ব্যক্তি যিনি বিদেশ বা বিদেশি সংস্থায় কর্মরত অবস্থায় বা অন্য কোনোরূপ সহযোগিতার মাধ্যমে কোনো উদ্ভিদের নূতন জাত উদ্ভাবন করিয়াছেন, এবং উক্ত দেশ বা সংস্থার অনুমতি গ্রহণ করিয়া এই আইনের অধীন সংরক্ষণের জন্য আবেদন করিয়াছেন; (ঘ)   বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব রহিয়াছে এইরূপ আন্তর্জাতিক কনভেনশন বা চুক্তির অংশীদার দেশের নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান; (ঙ)   প্রজননবিদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি, উত্তরাধিকারী এবং প্রজননবিদ হিসাবে দাবিদার কোনো কৃষক বা কৃষক সমিতি; এবং (চ)   রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা ইনস্টিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্তৃপক্ষ। (২) কোনো সংস্থার চাকরি বা চুক্তিতে নিয়োজিত কোনো কর্মচারী যদি কোনো উদ্ভিদের জাত প্রজনন করেন, তাহা হইলে চাকরির শর্ত বা সম্পাদিত চুক্তিতে ভিন্ন কোনোরূপ শর্ত না থাকিলে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রধান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ উহা সংরক্ষণের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন। (৩) যদি একাধিক প্রজননবিদ নূতন উদ্ভিদের জাত উদ্ভাবন করেন, তাহা হইলে তাহারা যৌথভাবে অথবা তাহাদের দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো একজন প্রজননবিদ জাত সংরক্ষণের আবেদন দাখিল করিতে পারিবেন। (৪) যদি একাধিক প্রজননবিদ যৌথভাবে উদ্ভিদের নূতন জাত প্রজনন বা উদ্ভাবন করেন এবং যৌথভাবে উহার অধিকার সংরক্ষণ করিতে আগ্রহী হন, তাহা হইলে তাহাদের সকলের স্বাক্ষরে যৌথভাবে জাত সংরক্ষণের আবেদন দাখিল করিতে হইবে।

17.১৭। নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর অযোগ্যতা

তৃতীয় অধ্যায় উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি, জাত নিবন্ধন, সংরক্ষণ, ইত্যাদি নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর অযোগ্যতা ১৭।  এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো ব্যক্তি জাত সংরক্ষণের নিবন্ধনের জন্য আবেদনের যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি - (ক) এই আইন বা বীজ আইন, ২০১৮ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন; (খ) তাহার আবেদনে নিম্নবর্ণিত তথ্য সরবরাহ বা, ক্ষেত্রমত, দাখিল করিতে ব্যর্থ হন, যথা :- (অ) আবেদনকৃত জাতটির প্রজননে কৃষকের জ্ঞান বা কৌলিসম্পদ ব্যবহারের প্রমাণ, (আ)  কৃষকের জ্ঞান বা কৌলিসম্পদ ব্যবহারে কৃষক বা কৃষক সমিতির নিকট হইতে প্রজনন অধিকারের কারণে প্রাপ্য সুবিধাদি সংক্রান্ত শর্তাবলি ও অনুমতির উল্লেখসহ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ফরমে চুক্তি, এবং (ই)  বাংলাদেশের বাহির হইতে সংগৃহীত কৌলিসম্পদের ক্ষেত্রে, উক্ত উপকরণাদি দেশের আইন অনুযায়ী সংগৃহীত এবং ইহা হইতে উদ্ভাবিত উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণের জন্য আবেদনকারীর অনুকূলে আবেদনের অনুমতি; (গ) জীববৈচিত্র্য কনভেনশন বা খাদ্য ও কৃষির জন্য উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অযোগ্য হন; এবং (ঘ) ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড রেস্ট্রিকশন টেকনোলজি বা টারমিনেটর টেকনোলজি ব্যবহার করিয়া কোনো জাত উদ্ভাবন করেন। ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘টার্মিনেটর টেকনোলজি অথবা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড রেস্ট্রিকশন টেকনোলজি’ অর্থ জাতের কৌলিক পরিবর্তন যাহার দ্বারা বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা পরবর্তী বৎসরে বাধাগ্রস্ত হইয়া থাকে।

18.১৮। আবেদনের অগ্রগণ্যতা

তৃতীয় অধ্যায় উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি, জাত নিবন্ধন, সংরক্ষণ, ইত্যাদি আবেদনের অগ্রগণ্যতা ১৮।  (১) ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ), (গ) ও (ঘ) এ উল্লিখিত কোনো প্রজননবিদ অন্য কোনো দেশে আবেদন দাখিল করিলে, সংশ্লিষ্ট জাতটি সংরক্ষণের জন্য এই আইনের অধীন আবেদন দাখিলের সময়সীমা গণনার ক্ষেত্রে ১২ (বার) মাসের অগ্রগণ্যতা পাইবেন। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অগ্রগণ্যতা প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রজননবিদকে প্রথম আবেদনে উল্লিখিত দেশ ও আবেদন দাখিলের তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে পরবর্তী আবেদনে উল্লেখ করিতে হইবে। (৩) এই ধারার অধীন মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে প্রথম আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে গণনা শুরু করিতে হইবে।

19.১৯। উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণের শর্তাবলি, ইত্যাদি

তৃতীয় অধ্যায় উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি, জাত নিবন্ধন, সংরক্ষণ, ইত্যাদি উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণের শর্তাবলি, ইত্যাদি ১৯। (১) নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকিলে কোনো উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ করা যাইবে, যথা :- (ক) নূতনত্ব ( Novelty ); (খ) সুস্পষ্ট স্বাতন্ত্র্য ( Distinctness ) ; (গ) সমরূপতা ( Uniformity ) ; এবং (ঘ) স্থায়িত্ব ( Stability ) । (২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এ উল্লিখিত নূতনত্ব বলিতে এই আইনের অধীন সংরক্ষিত জাত নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আবেদন দাখিলের পূর্ববর্তী ১ (এক) বৎসর বা বাংলাদেশের বাহিরে আবেদন দাখিলের পূর্ববর্তী ৪ (চার) বৎসর, বা বৃক্ষ ও লতাজাতীয় উদ্ভিদের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের পূর্ববর্তী ৬ (ছয়) বৎসরের পূর্বে উদ্ভাবিত জাতকে বুঝাইবে যাহার বীজ বা ফসল বিক্রয় বা হস্তান্তর করা হয় নাই। (৩) কোনো সংরক্ষিত জাত অন্যের নিকট বিক্রয় বা হস্তান্তরের ফলে নূতনত্ব ক্ষুণ্ণ হইবে না, যদি - (ক) প্রজননবিদ নিজেই বা তাঁহার উত্তরসূরির পক্ষে কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট জাতের বীজ উৎপাদনের অধিকার বিদ্যমান থাকে : তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে উৎপন্ন সামগ্রী প্রজননবিদ বা তাঁহার উত্তরসূরির নিকট প্রত্যর্পিত হইবে; এবং (খ) জীব নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা বা পরীক্ষা বা ব্যবসায় অনুপ্রবেশের জন্য জাতটি সরকারি তালিকাভুক্ত হয় এবং সংবিধি বা প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা পূরণের অংশ হইয়া থাকে। (৪) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, উপ-ধারা (১) এর - (অ)  দফা (খ) এ উল্লিখিত সুস্পষ্ট স্বাতন্ত্র্য বলিতে জাত সংরক্ষণ নিবেন্ধন আবেদন দাখিলের সময় বিদ্যমান অপরাপর জাত হইতে সুস্পষ্টভাবে পৃথক করা যায় এইরূপ জাতকে বুঝাইবে; (আ) দফা (গ) এ উল্লিখিত সমরূপতা বলিতে উদ্ভিদের জাতের বৈশিষ্টসমূহে পর্যাপ্তভাবে সাদৃশ্য রহিয়াছে এইরূপ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জাতকে বুঝাইবে: তবে শর্ত থাকে যে, নির্দিষ্ট কোনো বংশ বিস্তার পদ্ধতির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য প্রতীয়মান হইলেও এই বৈচিত্র্য জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে থাকিবে; এবং (ই) দফা (ঘ) এ উল্লিখিত স্থায়িত্ব বলিতে পুনঃপুনঃ বা বংশবিস্তার বা নির্দিষ্ট বংশবিস্তার চক্রের শেষ ধাপে যেসকল জাতের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহর অপরিবর্তিত থাকে, সেই জাতকে বুঝাইবে। (৫) যদি কোনো প্রজননবিদ তৎকর্তৃক উদ্ভাবিত কোনো জাত অন্য কোনো দেশে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন, তাহা হইলে উক্ত আবেদনের তারিখ হইতে উক্ত জাতটি জ্ঞাত জাত বলিয়া গণ্য হইবে।

20.২০। সংরক্ষিত জাতের নামকরণ, ইত্যাদি

তৃতীয় অধ্যায় উদ্ভিদের গণ ও প্রজাতি, জাত নিবন্ধন, সংরক্ষণ, ইত্যাদি সংরক্ষিত জাতের নামকরণ, ইত্যাদি ২০।  (১) প্রতিটি সংরক্ষিত জাত একটি গোষ্ঠীগত নাম দ্বারা চিহ্নিত হইবে। (২) সংরক্ষিত জাত কোনো নামে নিবন্ধিত হইলে উহা স্থায়ী নাম হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত জাত নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলেও উক্ত নাম কার্যকর থাকিবে। (৩) এই ধারার অধীন কোনো জাতের নামকরণে সুনির্দিষ্টভাবে জাতের বৈশিষ্ট্য, মূল্য বা পরিচিতি বা প্রজননবিদের পরিচিতির উল্লেখ থাকিতে হইবে। (৪) একই উদ্ভিদের প্রজাতি বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত প্রজাতির বিদ্যমান কোনো জাতের নামকরণ হইতে উহা ভিন্নতর হইতে হইবে। (৫) কোনো প্রজননবিদ কর্তৃক প্রস্তাবিত নামকরণ উপ-ধারা (৩) এর শর্তপূরণ না করিলে, কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রজননবিদকে ভিন্ন নাম প্রস্তাব করিতে নির্দেশ প্রদান করিবে এবং উক্ত প্রস্তাব অনুমোদিত হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত নামে জাতটিকে নিবন্ধনভুক্ত করিতে পারিবে। (৬) যদি পূর্বাধিকারের কারণে কোনো প্রজননবিদ কর্তৃক প্রস্তাবিত নাম ব্যবহার করা না যায়, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ প্রজননবিদকে সংশ্লিষ্ট জাতের জন্য নূতন নামকরণের প্রস্তাব দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে। (৭) কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত জাতের নাম নিবন্ধনের আবেদনটি প্রাথমিকভাবে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য বলিয়া প্রতীয়মান হইলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত নামের বিষয়ে কাহারও কোনা আপত্তি রহিয়াছে কিনা উহা অবহিত করিবার জন্য সরকারি গেজেট, ইলেকট্রনিক গেজেট (যদি থাকে), ওয়েব সাইট এবং বহুল প্রচারিত একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে উহার প্রাক্-প্রকাশ করিবে। (৮) উপ-ধারা (৭) এর বিধান অনুযায়ী প্রাক্-প্রকাশিত নাম নিবন্ধনের বিষয়ে কাহারও কোনো আপত্তি বা পরামর্শ থাকিলে উহা প্রাক্-প্রকাশের অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ, কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে। (৯) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৮) এর অধীন প্রাপ্ত আপত্তি বা পরামর্শ বিবেচনা করিয়া যথাশীঘ্র সম্ভব সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে উহা অনুমোদন করিবে এবং সরকারি গেজেটে উহার চূড়ান্ত প্রকাশ করিবে। (১০) এই ধারা অধীন নামকরণের প্রস্তাব গৃহীত হইবার পর যদি দেখা যায় যে, আবেদনকারী কোনো তথ্য গোপন করিয়াছেন এবং কোনো কৃষকের জাতের নাম অবৈধভাবে ব্যবহার ও প্রস্তাব করিয়াছেন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত নামকরণ বাতিল করিতে পারিবে।

21.২১। প্রজননবিদের অধিকার, ইত্যাদি

চতুর্থ অধ্যায় প্রজননবিদের অধিকার, মেয়াদ, কৃষক অধিকার, ইত্যাদি প্রজননবিদের অধিকার, ইত্যাদি ২১।  (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত জাত ব্যবহারের জন্য নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে, যথা:- (ক) উৎপাদন ও পুনরোৎপাদন; (খ) বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে যথোপযুক্ত অবস্থায় আনয়ন বা ব্যবহার; (গ) বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন ও প্রস্তাব; (ঘ) বিক্রয় বা অন্যভাবে বিপণন; (ঙ) আমদানি বা রপ্তানি; এবং (চ) দফা (ক) হইতে (ঙ) এ উল্লিখিত যে কোনো একটি উদ্দেশ্যে মজুদকরণ। (২) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে এবং নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে, কোনো প্রজননবিদ উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুমোদনের ক্ষমতা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট অর্পণ করিতে পারিবে। (৩) কোনো প্রজননবিদের সংরক্ষিত জাত এক বা একাধিকবার ব্যবহার করিয়া যদি কোনো ব্যক্তি উক্ত জাতের মৌলিক বিশিষ্ট্যসমূহ অক্ষুণ্ণ রাখিয়া এক বা একাধিক নূতন জাত উদ্ভাবন করেন, তাহা হইলে মূল সংরক্ষিত জাতের উদ্ভাবক প্রজননবিদের অধিকার বহাল থাকিবে। (৪) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, একজন ব্যক্তি ― (ক)  পরবর্তী মৌসুমে কৃষি উৎপাদনের জন্য তাহার উৎপাদিত কোনো সংরক্ষিত জাতের বীজ সংরক্ষণ; বা (খ)   দফা (ক) এ উল্লিখিত সংরক্ষিত বীজ নিজের প্রয়োজনে বা অন্য কোনো কৃষকের সহিত তাহার নিজের ব্যবহারের জন্য অন্য কোনো বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে ব্যবহার; বা (গ)   গবেষণা ও পরীক্ষার প্রয়োজনে সংরক্ষিত জাতের ব্যবহার; বা (ঘ)  নূতন কোনো জাত উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক উৎস হিসাবে সংরক্ষিত জাতের ব্যবহার করিতে পারিবেন। (৫) কর্তৃপক্ষ, জনস্বার্থে সংরক্ষিত জাত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধান অনুযায়ী প্রজননবিদের অধিকার, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে, সীমিত করিতে পারিবে, যথা: ― (ক)  রোগ প্রতিরোধ ; (খ)  পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ; (গ)  একতরফা বাণিজ্যের অপব্যবহার রোধ অর্থাৎ যদি সংরক্ষিত জাতের বীজের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপর্যাপ্ত রাখিয়া বাজারে বীজের দাম বৃদ্ধি করা হয়, বা যদি নূতন উদ্ভিদের জাতটি নিবন্ধন প্রদানের ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে বাজারজাত করা না হয়; (ঘ)   রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি; এবং (ঙ)  কর্তৃপক্ষ বা সরকারের বিবেচনায় অন্য যে কোনো জনকল্যাণমূলক প্রয়োজনে। (৬) কর্তৃপক্ষ, সরকারের অনুমোদনক্রমে, জিএমও জাতের উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারে প্রজননবিদের অধিকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সীমিত বা, ক্ষেত্রমত, নিষিদ্ধ করিতে পারিবে। (৭) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৫) এর দফা (গ) ও (ঘ) এ উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করিবার উদ্দেশ্যে, সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদকে যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার অধিকার সীমিত করিতে পারিবে এবং সংরক্ষিত জাতের উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য অন্য কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে, অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে। (৮) উপ-ধারা (৭) এর অধীন অনুমতি প্রদানের সময় সংরক্ষিত জাত নিবন্ধনের পর অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর বহাল থাকিবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদের জন্য যথাযথ পারিতোষিক ধার্য করিতে হইবে। (৯) যে পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত অনুমতি প্রদান করিয়াছিলেন সেইরূপ পরিস্থিতি বিদ্যমান না থাকিলে কর্তৃপক্ষ উক্ত অনুমতি বাতিল করিতে পারিবে। (১০) উপ-ধারা (৯) এর অধীন অনুমতি প্রত্যাহার বা বাতিল করা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংরক্ষিত জাতের উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ, আমদানি বাব্যবহার করিতে পারিবেন না।

22.২২। প্রজননবিদের অধিকারের মেয়াদ, অধিকার স্থগিত, বাতিল, ইত্যাদি

চতুর্থ অধ্যায় প্রজননবিদের অধিকার, মেয়াদ, কৃষক অধিকার, ইত্যাদি প্রজননবিদের অধিকারের মেয়াদ, অধিকার স্থগিত, বাতিল, ইত্যাদি ২২। (১) ধারা ২১ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সংরক্ষিত জাত ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদের অনুমোদন গ্রহণের মেয়াদ হইবে নিম্নরূপ, যথা : ― (ক)  ফলদ বৃক্ষ, অন্যান্য বৃক্ষ প্রজাতি এবং বহুবর্ষী লতানো প্রজাতির ক্ষেত্রে ১৬ (ষোল) বৎসর; এবং (খ)  অন্য সকল উদ্ভিদ প্রজাতির ক্ষেত্রে ১৪ ( চৌদ্দ ) বৎসর। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে সংরক্ষিত জাত নিবন্ধনের আবেদন দাখিল করিবার তারিখ বা ধারা ১৮ এ উল্লিখিত অগ্রগণ্যতা প্রাপ্তির তারিখের মধ্যে যেইটি সর্বাগ্রে হয় সেই তারিখ হইতে গণনা আরম্ভ করিতে হইবে। (৩) কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্র বা কারণে এই আইনের অধীন প্রদত্ত প্রজননবিদের অধিকার স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করিতে পারিবে, যথা: ― (ক) নিবন্ধন সনদ প্রদানের সময় জাতটির নূতনত্ব বা সুস্পষ্ট স্বাতন্ত্র্য ছিল না; (খ) উদ্ভিদের জাতটির সমরূপতার গ্রহণযোগ্য সীমা বা স্থায়িত্ব না থাকা; (গ) প্রজননবিদ উদ্ভিদের জাতটির রক্ষণাবেক্ষণ যাচাইয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপকরণাদি সরবরাহ না করিলে; (ঘ) প্রজননবিদ তাঁহার অধিকার বলবৎ রাখিবার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ‘ফি’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হইলে; (ঙ) নিবন্ধন প্রদানের পর কোনো উদ্ভিদের জাতের নাম বাতিল করা হইলে এবং প্রজননবিধ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য কোনো উপযুক্ত নাম প্রস্তাব না করিলে; (চ) প্রজননবিদ কোনো জাতের সহিত সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করিলে; এবং (ছ) সংরক্ষিত জাতের নিবন্ধন সনদটি যাহাকে প্রদান করিবার কথা, তাহার পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রদান করা হইয়া থাকিলে, যদি সনদটি যথাযথ ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা না হইয়া থাকিলে। (৪) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৩) এর অধীন একজন প্রজননবিদের অধিকার স্থগিত বা বাতিল করিবার পূর্বে উহার কারণ উল্লেখপূর্বক তাঁহাকে নোটিশ প্রদান করিবে এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তদ্‌কর্তৃক সম্পাদিত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে। (৫) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৪) এর অধীন দাখিলকৃত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করিবে এবং প্রজননবিদের অধিকার স্থগিত বা বাতিলের বিষয়ে যথোপোযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং উক্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে। (৬) উপ-ধারা (৫) এর বিধান অনুযায়ী প্রজননবিদের অধিকার বাতিল করা হইলে তিনি এই আইনের অধীন কোনো অধিকার দাবি করিতে পারিবেন না। (৭) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পরও সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত জাতটির নাম পরিবর্তন না করিয়া উৎপাদন, পুনরুৎপাদন, সংরক্ষণ, ব্যবহার, পুনঃব্যবহার, বিনিময় বা বিক্রয় করা যাইবে। (৮) এই আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো প্রজননবিদের সহিত কোনো ব্যক্তির আইনসংগত স্বার্থ বিদ্যমান থাকিলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রজননবিদের একক বা নিরঙ্কুশ অধিকার অকার্যকর বা বাতিল ঘোষণার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।

23.২৩। কৃষক অধিকার

চতুর্থ অধ্যায় প্রজননবিদের অধিকার, মেয়াদ, কৃষক অধিকার, ইত্যাদি কৃষক অধিকার ২৩। (১) কর্তৃপক্ষ, কৃষকের নিম্নরূপ অধিকারসমূহ রক্ষা এবং কার্যকর করিবে, যথা : - (ক) কৃষক কর্তৃক নূতন উদ্ভাবিত জাত নিবন্ধন ও সংরক্ষণের আবেদন দাখিল ও সংরক্ষণের অধিকার; (খ) সংরক্ষিত জাতের উপর এই আইনে প্রদত্ত অধিকার; (গ) কোনো আদিজাতের কৌলিসম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো কৃষক বা কৃষক সমিতি তহবিল হইতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে স্বীকৃতি সনদ বা আর্থিক সহায়তা বা পুরস্কার প্রাপ্তির অধিকার। (ঘ) খাদ্য, কৃষি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ সম্পর্কিত চিরায়ত জ্ঞান সংরক্ষণে কৃষক ও কৃষক সমিতির স্বীকৃতি প্রাপ্তির অধিকার; (ঙ) প্রজননবিদ কর্তৃক কোনো জাত উন্নয়নে কৃষকের সংরক্ষিত জাতের কৌলিসম্পদ ব্যবহৃত হইলে উহা হইতে উদ্ভূত সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার; (চ) উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ সংরক্ষণ এবং ইহার টেকসই ব্যবহার সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের অধিকার; এবং (ছ) কৃষক সম্প্রদায় কর্তৃক চিরায়তভাবে ব্যবহৃত উদ্ভিদের জাতসমূহের কোনোটির নাম যদি সরকারি বা বেসরকারি প্রজননবিদ কর্তৃক নিজ নামে সংরক্ষিত জাত হিসাবে নিবন্ধন করেন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উহা বাতিল করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অধিকারসমূহ ব্যতিরেকেও একজন কৃষক বাণিজ্যিক বিপণনের উদ্দেশ্য ব্যতীত, সংরক্ষিত জাতের বীজ উৎপাদন, পুনরুৎপাদন, সংরক্ষণ, ব্যবহার, পুনঃব্যবহার, বিনিময় বা বিক্রয় করিতে পারিবে। ব্যাখ্যা - এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘চিরায়তজ্ঞান ( Traditional Knowledge ) ’ বলিতে জীববৈচিত্র্য ও জীবসম্পদ সংশ্লিষ্ট সকল ধরনের জ্ঞান, মেধা ও বুদ্ধি বৃত্তিক চর্চা ও কৃষ্টি যাহা লিখিত, মৌখিক, লোককথা ও কাহিনি আকারে প্রচলিত এবং যাহা যুক্তিসম্মত, বাস্তব বা রূপক, প্রতীকধর্মী বা রেখাচিত্রমূলক হইতে পারে এবং যাহা কোনো একক ব্যক্তির উদ্ভাবন বা প্রচেষ্টার ফল নহে।

24.২৪। ব্যক্তি, সমিতি বা প্রতিষ্ঠানের অধিকার, ইত্যাদি

চতুর্থ অধ্যায় প্রজননবিদের অধিকার, মেয়াদ, কৃষক অধিকার, ইত্যাদি ব্যক্তি, সমিতি বা প্রতিষ্ঠানের অধিকার, ইত্যাদি ২৪।  (১) যদি কোনো ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সংরক্ষিত জাত উদ্ভাবনে অবদান থাকে তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত জাতের নিবন্ধনের জন্য প্রজননবিদের অধিকার ও সুবিধাদি বিষয়ে অংশীদারিত্ব দাবি করিয়া কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সংরক্ষিত জাত উদ্ভাবনে অবদান রহিয়াছে এইরূপ কোনো জাত যদি এই আইনের অধীনে এককভাবে কোনো প্রজননবিদের অনুকূলে নিবন্ধিত হইয়া থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ দাবী করিতে পারিবে।

25.২৫। স্বীকৃতিসনদ, পুরস্কার, ইত্যাদি

চতুর্থ অধ্যায় প্রজননবিদের অধিকার, মেয়াদ, কৃষক অধিকার, ইত্যাদি স্বীকৃতিসনদ, পুরস্কার, ইত্যাদি ২৫। (১) কর্তৃপক্ষ, উদ্ভিদের জাতসংরক্ষণ ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা সংস্থার অনুকূলে ‘স্বীকৃতিসনদ’ প্রদান করিতে পারিবে। (২) যদি কোনো প্রজননবিদ কর্তৃক উদ্ভাবিত উদ্ভিদের কোনো জাত নূতন জাত হিসাবে সনদ লাভের উপযুক্ত কিন্তু উহা সংরক্ষণের আবেদন দাখিল করা হয় নাই, তাহা হইলে উহা স্বীকৃতি প্রাপ্তির যোগ্য এবং জাতীয় সম্পদ হিসাবে গণ্য হবে। (৩) কর্তৃপক্ষ, দেশে উদ্ভিদের জাতসংরক্ষণ ও উন্নয়নে অবদানের গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক যাহাই হউক না কেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে গবেষণা অনুদান বা আর্থিক পুরস্কার প্রদান করিতে পারিবে।

26.২৬। অপরাধ ও দণ্ড

পঞ্চম অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি অপরাধ ও দণ্ড ২৬। (১) কোনো ব্যক্তি সংরক্ষিত জাতের মিথ্যা নামকরণ করিলে, বা নিবন্ধিত কোনো জাতের বাণিজ্যিক ব্যবহারকালে স্বেচ্ছায় কোনো দেশ বা স্থান, প্রজননবিদ বা তাহার ঠিকানা সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করিলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। (২) কোনো ব্যক্তি নিবন্ধিত কোনো সংরক্ষিত জাতের ভুল নাম ব্যবহার করিলে, বা জাত উৎপাদনের দেশ বা স্থানের নাম বা প্রজননবিদের নাম, ঠিকানা মিথ্যা বা বিকৃত করিয়া উক্ত জাত বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন বা বিক্রয়, বাণিজ্য বা উৎপাদনের জন্য নিজ দখলে রাখিলে উহা এই আইনের অধীন একটি অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

27.২৭। কোম্পানি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ

পঞ্চম অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি কোম্পানি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ ২৭। কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত কোম্পানির মালিক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা যিনি এই অপরাধ সংঘটনকালে কোম্পানির ব্যবসায় পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তিনি অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছিল বা তিনি উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করিয়াছিলেন।

28.২৮। তদন্ত ও বিচার

পঞ্চম অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি তদন্ত ও বিচার ২৮। এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্ত ও বিচার Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) অনুযায়ী সম্পন্ন হইবে।

29.২৯। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ

পঞ্চম অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ২৯। Code of Criminal Procedure, 1898 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যান বা চেয়ারম্যান কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ব্যতীত, কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।

30.৩০। অপরাধের অ-আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা

পঞ্চম অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি অপরাধের অ-আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা ৩০।  এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (non-cognigable) ও জামিনযোগ্য (bailable) হইবে।

31.৩১। ক্ষতিপূরণ

পঞ্চম অধ্যায় অপরাধ, দণ্ড, তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি ক্ষতিপূরণ ৩১। এই আইনে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণ এবং উদ্ভিদের নূতন জাত প্রজনন বা উদ্ভাবনের জন্য প্রজননবিদ বা বীজ উৎপাদকের উদ্দেশ্য প্রণোদিত অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সংক্ষুব্ধ কৃষক, ব্যক্তি, সংগঠন, সমিতি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা সংক্ষুব্ধ নাগরিক, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ ও পদ্ধতিতে, ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ আদায় করিতে পারিবে।

32.৩২। কর্তৃপক্ষের তহবিল

ষষ্ঠ অধ্যায় তহবিল, বাজেট, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের তহবিল ৩২। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ তহবিল’ নামে কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে। (২) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা উক্ত তহবিল গঠিত হইবে, যথা: - (ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরি ও অনুদান; (খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো বিদেশি সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা হইতে প্রাপ্ত অনুদান; (ঘ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আদায়কৃত ফি ও প্রাপ্ত অর্থ; (ঙ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ব্যাংক বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থা হইতে গৃহীত ঋণ; (চ) তহবিল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সুবিধা ও মুনাফা হইতে আহরিত অর্থ; এবং (ছ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, অন্যান্য আইনানুগ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ ও অনুদান। (৩) কর্তৃপক্ষের তহবিল কোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং উক্ত তহবিল বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে। (৪) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি এবং কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় তহবিল হইতে নির্বাহ করা যাইবে: তবে শর্ত থাকে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এতদসংশ্লিষ্ট প্রচলিত বিধি-বিধান ও নিয়ম-নীতি অনুসরণ করিতে হইবে। (৫) কর্তৃপক্ষ তহবিলের অর্থ বোর্ডের অনুমোদনক্রমে যে কোনো তপশিলি ব্যাংক বা সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করিতে পারিবে। (৬) প্রত্যেক অর্থবৎসরে উহার সকল ব্যয় নির্বাহের পর কর্তৃপক্ষ তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিতে হইবে। ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘তপশিলি ব্যাংক’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (President's Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j) এ সংজ্ঞায়িত 'Scheduled Bank ' ।

33.৩৩। ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা

ষষ্ঠ অধ্যায় তহবিল, বাজেট, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা ৩৩। কর্তৃপক্ষ, উহার দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থা হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।

34.৩৪। বাজেট

ষষ্ঠ অধ্যায় তহবিল, বাজেট, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি বাজেট ৩৪। কর্তৃপক্ষ প্রতিবৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট দাখিল করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।

35.৩৫। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা

ষষ্ঠ অধ্যায় তহবিল, বাজেট, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা ৩৫। (১) কর্তৃপক্ষ, যথাযথভাবে উহার আয়-ব্যয়ের হিসাবরক্ষণ এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে। (২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রতিবৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নিকট দাখিল করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। (৪) উপ-ধারা  (২)  এ  উল্লিখিত  নিরীক্ষা  ব্যতিরেকেও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b) এ সংজ্ঞায়িত ‘ chartered accountant' দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক 'chartered accountant' নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এইরূপ নিয়োগকৃত 'chartered accountant' সরকার কর্তৃক, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে, পারিশ্রমিক প্রাপ্য হইবেন। (৫) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৪) এর অধীন নিয়োগকৃত 'chartered accountant ' কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক স্থিতিপত্র, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি, ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার বা কর্তৃপক্ষের যে কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন। (৬) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর বিধান, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অনুসরণ করিতে হইবে।

36.৩৬। বার্ষিক প্রতিবেদন

ষষ্ঠ অধ্যায় তহবিল, বাজেট, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি বার্ষিক প্রতিবেদন ৩৬। (১) প্রত্যেক অর্থবৎসর সমাপ্তির ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে। (২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে উহার কার্যাবলি বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য, বিবরণী, প্রাক্কলন, পরিসংখ্যান বা অন্য কোনো তথ্য আহবান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

37.৩৭। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।

সপ্তম অধ্যায় বিবিধ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা। ৩৭। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

38.৩৮। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

সপ্তম অধ্যায় বিবিধ প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা ৩৮। কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত অসংগতিপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

39.৩৯। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ।

সপ্তম অধ্যায় বিবিধ ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ। ৩৯। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ ( Authentic Text ) প্রকাশ করিতে পারিবে। (২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

© 2026 Bangladesh Law Digest (BDLD). This is a convenience mirror. For official texts, refer to the Bangladesh Gazette.