BDLD LogoLaws Database
Search for acts, sections, or keywords...
⌘K

Search BDLD Laws

Table of Contents

  • Chapter 1: General1. ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন2. ২। সংজ্ঞা3. ৩। আইনের প্রাধান্য4. ৪। কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা5. ৫। কর্তৃপক্ষের কার্যালয়6. ৬। কর্তৃপক্ষ গঠন, ইত্যাদি7. ৭। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি8. ৮। চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়োগ, মেয়াদ, অপসারণ, ইত্যাদি9. ৯। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও কার্যাবলি10. ১০। কর্তৃপক্ষের সভা11. ১১। পরামর্শ বা সহযোগিতা12. ১২। কমিটি গঠন13. ১৩। মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন14. ১৪। মহাপরিকল্পনা সংশোধন15. ১৫। মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে মামলা করিবার উপর বিধি-নিষেধ16. ১৬। মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারের অনুমতি17. ১৭। উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন18. ১৮। উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধন19. ১৯। কতিপয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর বিধি-নিষেধ20. ২০। অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প21. ২১। স্থানীয় পরিকল্পনা22. ২২। ভূমি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইমারত পরিবর্তন বা অপসারণের ক্ষমতা23. ২৩। ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন24. ২৪। রাস্তার প্রশস্ততা25. ২৫। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ভূমি ও ইমারত ন্যস্তকরণ26. ২৬। সমাপ্ত প্রকল্পের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট ন্যস্তকরণ27. ২৭। সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন প্রকল্প বা সম্পত্তি হস্তান্তর28. ২৮। কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্তকৃত সরকারি রাস্তা, নর্দমা, ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণ29. ২৯। ভূমি ক্রয় বা লিজ গ্রহণের ক্ষমতা30. ৩০। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষমতা31. ৩১। ভূমি বিলি-বন্দেজ32. ৩২। উন্নয়ন ফি ধার্যের ক্ষমতা33. ৩৩। মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারে বিধি-নিষে34. ৩৪। ইমারত নির্মাণ, জলাধার খনন, চালা অথবা উঁচু ভূমি, ইত্যাদি বিষয়ে বিধি-নিষেধ35. ৩৫। কৃত্রিম জলাধার খনন, ইত্যাদি স্থগিতকরণ36. ৩৬। নিচু ভূমি ভরাট বা প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্তের উপর বিধি-নিষেধ37. ৩৭। খেলার মাঠ, উন্মুক্ত মাঠ, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন38. ৩৮। সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি অপসারণের উপর উপর বিধি-নিষেধ39. ৩৯। ইমারত অথবা দেয়াল অপসারণের উপর বিধি-নিষেধ40. ৪০। অবৈধ নির্মাণ অপসারণ41. ৪১। অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করিয়া ভবন নির্মাণের উপর বিধি-নিষেধ42. ৪২। অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ43. ৪৩। অননুমোদিত নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ ও উহাতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ44. ৪৪। কর্তৃপক্ষের কার্য সম্পাদনকালে নিরাপত্তা বেষ্টনী ইত্যাদি, অপসারণ45. ৪৫। কর্তৃপক্ষের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসাধুভাবে কোনো কর্মকাণ্ডে সহায়তা46. ৪৬। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইমারত নির্মাণের অনুমতি প্রদানে বিধি-নিষেধ47. ৪৭। চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মচারী কর্তৃক কর্তৃপক্ষের শেয়ার, স্বার্থ বা চুক্তিতে অংশগ্রহণে বিধি-নিষেধ48. ৪৮। ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা49. ৪৯। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ50. ৫০। বিচার, ইত্যাদি51. ৫১। অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা52. ৫২। মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার53. ৫৩। কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন54. ৫৪। কর্মচারী নিয়োগ55. ৫৫। কর্মচারীর অবসর গ্রহণ বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অবসর প্রদান56. ৫৬। আন্তঃকর্তৃপক্ষ বদলি57. ৫৭। জনসেবক58. ৫৮। তহবিল59. ৫৯। বার্ষিক বাজেট60. ৬০। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা61. ৬১। বকেয়া আদায়62. ৬২। প্রতিবেদন63. ৬৩। ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা64. ৬৪। বিরোধ নিষ্পত্তি65. ৬৫। প্রবেশাধিকার66. ৬৬। ক্ষমতা অর্পণ67. ৬৭। ক্ষতিপূরণ প্রদানে কর্তৃপক্ষের সাধারণ ক্ষমতা68. ৬৮। নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা69. ৬৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা70. ৭০। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা71. ৭১। রহিতকরণ ও হেফাজত72. ৭২। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬

Act No. ৬৮ of 2026

Enacted: 2026-01-01

Chapter 1
General

1.১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন

নারায়ণগঞ্জ ও উহার সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উক্ত অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযু্ক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যেহেতু নারায়ণগঞ্জ ও উহার সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উক্ত অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযু্ক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:— প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন ১। (১) এই আইন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে। (২) ইহা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকা এবং সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত সিটি কর্পোরেশন এলাকা সংলগ্ন যে সকল এলাকা নির্ধারণ করিবে সেই সকল এলাকায় প্রযোজ্য হইবে। (৩) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

2.২। সংজ্ঞা

প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক সংজ্ঞা ২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,— (১) “ইমারত” অর্থ Building Construction Act, 1952 (Act No. II of 1953) এর section 2 এর clause (b)-তে সংজ্ঞায়িত building; (২) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; (৩) “কোম্পানি” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ)-তে সংজ্ঞায়িত কোনো কোম্পানি; (৪) “চেয়ারম্যান” অর্থ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান; (৫) “জলাধার” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (কক)-তে সংজ্ঞায়িত জলাধার; (৬) “তহবিল” অর্থ ধারা ৫৮-তে উল্লিখিত তহবিল; (৭) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি বা, ক্ষেত্রমত, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত; (৮) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান; (৯) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি; (১০) “ব্যক্তি” অর্থে কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, সমিতি বা সংস্থা, উহা নিবন্ধিত হউক বা না হউক অন্তর্ভুক্ত হইবে; (১১) “ভূমি পুনঃউন্নয়ন (Land Redevelopment)” অর্থ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ, জরাজীর্ণ ও অপ্রতুল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এলাকার সহজাত বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রাখিয়া পুনঃউন্নয়ন প্রক্রিয়ায় উক্ত এলাকার বাসযোগ্যতা, জীবনযাত্রার মান, অর্থনৈতিক অবস্থা ও কাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় স্বত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া; (১২) “ভূমি পুনর্বিন্যাস (Land Readjustment)” অর্থ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় একাধিক মালিকানাধীন খণ্ডিত ভূমিসমূহ একীভূত করিয়া একটি একক ভূমি ব্যবহার প্রক্রিয়া, যাহার আওতায় প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সকল ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো যেমন- রাস্তা, ড্রেন, পার্ক, জন পরিষেবার জন্য ভূমির সংস্থানপূর্বক অবশিষ্ট ভূমি যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে ভূমি মালিকদের নিকট স্ব স্ব মালিকানা স্বত্বের হিস্যা অনুযায়ী পুনর্বিভাজনের মাধ্যমে পুনর্বিন্যাসকরণ; (১৩) “সদস্য” অর্থ কর্তৃপক্ষের কোনো সদস্য; (১৪) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশনসহ এতদ্‌বিষয়ে কোনো আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান; এবং (১৫) “ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী” অর্থ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মচারী।

3.৩। আইনের প্রাধান্য

প্রথম অধ্যায় প্রারম্ভিক আইনের প্রাধান্য ৩। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

4.৪। কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা ৪। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে। (২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই আইন বা তদ্‌ধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর বা অস্থাবর অথবা উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার বা হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

5.৫। কর্তৃপক্ষের কার্যালয়

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের কার্যালয় ৫। (১) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় থাকিবে। (২) প্রশাসনিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ইহার আওতাধীন এলাকায় এক বা একাধিক শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

6.৬। কর্তৃপক্ষ গঠন, ইত্যাদি

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ গঠন, ইত্যাদি ৬। (১) কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:— (ক) একজন চেয়ারম্যান; (খ) ৪ (চার) জন সদস্য; (গ) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন উপসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি; (ঘ) জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ বা তদ্‌কর্তৃক মনোনীত একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক; (ঙ) জেলা পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ বা তদকর্তৃক মনোনীত একজন অতিরিক্ত পুলিশ পুলিশ সুপার; (চ) গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত অন্যূন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি; এবং (ছ) স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত অন্যূন নির্বাহী স্থপতি পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি; এবং (জ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। (২) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং উপ-ধারা (১) এর দফা (খ)-তে বর্ণিত ৪ (চার) জন সদস্য কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হইবেন।

7.৭। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি ৭। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ উন্নয়ন, পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করিবার ও আদেশ প্রদান করিবার ক্ষমতা রাখিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:— (ক) ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করিয়া মহাপরিকল্পনা, কৌশলগত পরিকল্পনা ও বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উহা প্রণয়নের নিমিত্ত ভূমি জরিপ ও সমীক্ষা, গবেষণা পরিচালনা এবং এতদ্‌সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন; (খ) আধুনিক, সাম্যভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যাবলি বিশেষত নিম্নবিত্ত, বস্তিবাসী এবং গৃহহীনদের আবাসন সমস্যাকে অগ্রাধিকার বিবেচনাক্রমে মহাপরিকল্পনার আলোকে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; (গ) অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রেতার স্বার্থ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ, Building Construction Act, 1952, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও কোড অনুসরণপূর্বক ইমারত নির্মাণ অনুমোদন প্রদান ও তদারকি, ঝুঁকিপূর্ণ, অবৈধ, অননুমোদিত বা ব্যত্যকৃত স্থাপনা অপসারণ, এবং প্লট ও অ্যাপার্টমেন্টের অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ; (ঘ) অপরিকল্পিত, অপ্রশস্ত সড়ক ও এলাকার ভূমি পুনঃউন্নয়ন (Land Re-development) ও ভূমি পুনর্বিন্যাসে (Land Re-adjustment) উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; (ঙ) কর্তৃপক্ষের সেবাসমূহের ডিজিটালাইজেশন; (চ) সকল সরকারি বা বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জনপরিষেবা ও অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান ও সমন্বয় সাধন; (ছ) নগর ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, যথা- পরিবেশ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, জলাশয় ও কৃষি জমি সংরক্ষণ, বিনোদন সুবিধা প্রদান, উন্মুক্ত স্থানসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, বনায়ন ও সবুজ বেষ্টনী তৈরি, ইত্যাদি; (জ) উপরি-উক্ত কার্যাবলি সম্পাদনকল্পে আনুষঙ্গিক অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ; এবং (ঝ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, অর্পিত ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য যেকোনো দায়িত্ব ও কার্যাবলি সম্পাদনসহ পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিতকল্পে দায়িত্ব পালন।

8.৮। চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়োগ, মেয়াদ, অপসারণ, ইত্যাদি

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়োগ, মেয়াদ, অপসারণ, ইত্যাদি ৮। (১) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরকৃত হইবে। (২) চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যগণ তাহাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি ২ (দুই) মেয়াদের অধিক চেয়ারম্যান বা সার্বক্ষণিক সদস্য হিসাবে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না। (৩) কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সার্বক্ষণিক সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন না বা উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন না, যদি তিনি— (ক) বাংলাদেশের নাগরিক না হন; (খ) শারীরিক বা মানসিক অসামর্থের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; (গ) কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া অথবা অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত হন; (ঘ) কোনো ব্যাংক অথবা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক ঋণ খেলাপি হিসাবে ঘোষিত হন এবং দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন; (ঙ) কোনো ফৌজদারি অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন; অথবা (চ) কর্তৃপক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো পেশা বা ব্যবসায়ের সহিত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন বা হন। (৪) সরকার, কারণ দর্শাইবার যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া, চেয়ারম্যান বা কোনো সার্বক্ষণিক সদস্যকে যেকোনো সময় অপসারণ করিতে পারিবে। (৫) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা তাহার অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্যপদে নূতন চেয়ারম্যান কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক মনোনীত যেকোনো কর্মকর্তা চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

9.৯। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও কার্যাবলি

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও কার্যাবলি ৯। (১) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন, এবং তিনি— (ক) এই আইন, বিধি ও প্রবিধানের বিধান অনুসারে কর্তৃপক্ষের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং প্রশাসন পরিচালনার জন্য দায়ী থাকিবেন; (খ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদন করিবেন। (২) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার ক্ষমতা, কোনো সদস্য বা কর্মচারীকে প্রদান করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ও সরকারের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ (Delegation of Financial Powers) সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

10.১০। কর্তৃপক্ষের সভা

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের সভা ১০। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে। (২) প্রতি ২ (দুই) মাসে কর্তৃপক্ষের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং সভার তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত হইবে, তবে যেকোনো সময় জরুরি সভা আহ্বান করা যাইবে। (৩) চেয়ারম্যান, কর্তৃপক্ষের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে তদ্‌কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। (৪) কর্তৃপক্ষের সভায় কোরামের জন্য অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে, তাহার মধ্যে অন্যূন ৩ (তিন) জন হইবেন ধারা ৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) ও (খ) এ উল্লিখিত সদস্য এবং অন্যূন ২ (দুই) জন হইবেন ধারা ৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) হইতে (জ) এ উল্লিখিত সদস্য। (৫) কর্তৃপক্ষের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক সদস্যের ১ (এক)টি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতির নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে। (৬) কেবল কোনো সদস্য পদে শূন্যতা বা কর্তৃপক্ষ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তদ্‌সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না। (৭) প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী স্বাক্ষরিত হইবার অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট উহার অনুলিপি প্রেরণ করিতে হইবে।

11.১১। পরামর্শ বা সহযোগিতা

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি পরামর্শ বা সহযোগিতা ১১। কর্তৃপক্ষ উহার সভার নির্ধারিত আলোচ্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষ অবদান রাখিতে সক্ষম বা কর্তৃপক্ষের কার্য সম্পাদনে সহায়তার জন্য, প্রয়োজনে, সদস্য নহেন কিন্তু উক্তরূপ কার্যে অভিজ্ঞ এইরূপ কোনো ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণের পরামর্শ বা সহযোগিতা গ্রহণ করিতে পারিবে, তবে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিনিধি কোনো ভোটাধিকার প্রয়োগ করিতে পারিবেন না।

12.১২। কমিটি গঠন

দ্বিতীয় অধ্যায় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি কমিটি গঠন ১২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য, প্রয়োজনে, এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং এইরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা, মেয়াদ ও কার্যপরিধি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

13.১৩। মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ১৩। (১) কর্তৃপক্ষ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহার আওতাভুক্ত এলাকার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে, যথা:— (ক) নৌ, বিমান, রেল, সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচলের গতি-প্রকৃতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়াদি; (খ) পানি সরবরাহ, সংরক্ষণ, পয়ঃপ্রণালি, পয়ঃনিষ্কাশন ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; (গ) বিভিন্ন সরকারি অফিস, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেবা কেন্দ্র, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, উদ্যান, উন্মুক্ত স্থান, জলাশয় এবং বিনোদনমূলক ব্যবস্থা, পর্যটন তথ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র, বয়স্ক পুনবার্সন কেন্দ্র, খেলার মাঠ, হাসপাতাল, ইত্যাদির জন্য ভূমি সংরক্ষণসহ উহার অবস্থান নির্ধারণ ও সংরক্ষণ; (ঘ) আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকার অবস্থান নির্ধারণ, সংরক্ষণ এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়াদি; (ঙ) মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে প্রয়োজন হইতে পারে এইরূপ ভূমি চিহ্নিতকরণ ও উহার অবস্থান নির্ধারণ; (চ) ভূমি ব্যবহার, জোনিং এবং প্রাকৃতিক ল্যান্ডস্কেপ অনুসরণ করিয়া ভূমি সংরক্ষণ; (ছ) সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়াদি; এবং (জ) দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা সংবলিত নগরায়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প, ধারাবাহিক উন্নয়ন, নিয়মিত সংস্কার এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়াদি। (২) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, মহাপরিকল্পনা সরকারি গেজেট, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট এবং বহুল প্রচারিত অন্যূন ২ (দুই) টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রাক-প্রকাশ করিবে। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাক-প্রকাশিত মহাপরিকল্পনার বিষয়ে কাহারও কোনো আপত্তি বা পরামর্শ থাকিলে উহা প্রাক-প্রকাশের ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে। (৪) কর্তৃপক্ষ, প্রাপ্ত আপত্তি বা পরামর্শ বিবেচনাপূর্বক উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাক-প্রকাশের তারিখ হইতে অনধিক ১০৫ (একশত পাঁচ) দিনের মধ্যে সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে উক্ত মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে। (৫) সরকার, উপ-ধারা (৪) এর অধীন মহাপরিকল্পনা প্রাপ্ত হইবার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে উহা অনুমোদন করিবে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা উহার চূড়ান্ত প্রকাশ করিবে।

14.১৪। মহাপরিকল্পনা সংশোধন

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি মহাপরিকল্পনা সংশোধন ১৪। কর্তৃপক্ষ, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে, সময় সময়, মহাপরিকল্পনা সংশোধন করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে ধারা ১৩ এর উপ-ধারা (২), (৩), (৪) ও (৫) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

15.১৫। মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে মামলা করিবার উপর বিধি-নিষেধ

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে মামলা করিবার উপর বিধি-নিষেধ ১৫। মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন অথবা উহার সংশোধন বা পরিবর্তন গেজেটে প্রকাশিত হইবার পূর্বে এতদ্‌বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যাইবে না।

16.১৬। মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারের অনুমতি

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারের অনুমতি ১৬। (১) কোনো ব্যক্তি মহাপরিকল্পনায় উল্লিখিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো ভূমি ব্যবহার করিতে ইচ্ছুক হইলে তাহাকে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করিতে হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর চেয়ারম্যান উহা নিষ্পত্তিক্রমে আদেশ প্রদান করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর আপিল করিতে পারিবেন।

17.১৭। উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ১৭। (১) কর্তৃপক্ষ মহাপরিকল্পনার ভিত্তিতে উহার আওতাভুক্ত কোনো এলাকার জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তুত করিয়া উহা অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করিবে। (২) উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের উল্লেখ থাকিবে, যথা:— (ক) গৃহায়নসহ প্রস্তাবিত উন্নয়ন, পূর্ত কাজের বিবরণ, প্রাক্কলিত ব্যয় ও প্রস্তাবিত অর্থের সংস্থান; (খ) প্রকল্প বাস্তবায়ন করিবার জন্য যে পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণ করিতে হইবে বা উহা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে; (গ) এলাকার ভূমি বিন্যাস বা পুনর্বিন্যাস; (ঘ) প্রকল্প এলাকার ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমির উপর অবস্থিত যে সকল ইমারত ধ্বংস, পরিবর্তন বা পুনঃনির্মাণ করিতে হইবে; (ঙ) বিক্রয় ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে সকল ইমারত নির্মাণ করিতে হইবে; (চ) রাস্তা, লেন, ফুটপাত, ওভারপাস, আন্ডারপাস, নর্দমা, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি সরবরাহের পাইপ লাইন, সেতু, গলি, টেলিফোন লাইন, ইন্টারনেটের অপটিক্যাল লাইন, বৈদ্যুতিক লাইন, গ্যাস লাইন ও কালভার্টের বিন্যাস বা পরিবর্তন; (ছ) রাস্তা সমতলকরণ, ফুটপাত বানানো, পাকাকরণ, রাস্তার উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নর্দমার ব্যবস্থাকরণ এবং পানি সরবরাহ, আলোকিতকরণ এবং সাধারণভাবে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ সংস্থান করে এইরূপ স্যানিটারি সুবিধাদি; (জ) প্রকল্পভুক্ত এলাকার ভূমি ভরাট, নিচু ও সমতল করণ; ঝ) উন্মুক্ত গণস্থান তৈরি, সংরক্ষণ, বর্ধিতকরণ ও উন্নয়ন; (ঞ) বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সমৃদ্ধিকরণ অথবা পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য গৃহীত প্রকল্প; (ট) নির্গমনদ্বারসহ নর্দমা ও পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প; (ঠ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্র, বাস, ট্যাক্সি ও রিকশাস্ট্যান্ড এবং বাজার নির্মাণের স্থান অধিগ্রহণ করিয়া উক্ত উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ; এবং (ড) এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য যেকোনো বিষয়। (৩) সরকার, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত উন্নয়ন প্রকল্প পরিবর্তনসহ বা পরিবর্তন ব্যতীত অনুমোদন করিতে পারিবে। (৪) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৩) এর অধীন সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে। (৫) কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বা ইহার নিজস্ব ওয়েবসাইটে উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করিয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিবে এবং প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান সাইনবোর্ডে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ প্রদর্শন করিবে। (৬) উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভূমির বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখিতে হইবে। (৭) কোনো উন্নয়ন বা জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়নকালীন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত কোনো রাস্তায় বা উহার অংশবিশেষে যানবাহন বা জনসাধারণের চলাচলের উপর কর্তৃপক্ষ সাময়িক বিধি-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবে। (৮) কর্তৃপক্ষ, উপ-ধারা (৭) এর অধীন সাময়িক বিধি-নিষেধ আরোপের বিষয়টি স্থানীয় জনসাধারণকে অবহিত করিবে যাহাতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উক্ত অঞ্চলের জনসাধারণ এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ লাভ করে।

18.১৮। উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধন

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধন ১৮। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হইবার পর কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উহা সংশোধন করিতে পারিবে।

19.১৯। কতিপয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর বিধি-নিষেধ

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি কতিপয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর বিধি-নিষেধ ১৯। (১) কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ব্যতীত কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার কোনো অংশে কোনো ব্যক্তি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি সাধারণভাবে কোনো ধরনের অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও ইমারত নির্মাণ, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করিতে পারিবে না। (২) নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয় ভরাট করিয়া অথবা উহাদের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করিয়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাইবে না। (৩) পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখিয়া প্রকল্প প্রণয়ন করিতে হইবে এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এইরূপ কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাইবে না।

20.২০। অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প ২০। (১) ধারা ১৩-তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর্তৃপক্ষ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, জনস্বার্থে, কোনো অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রণীত অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প অবাস্তবায়িত থাকা অবস্থায় মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হইলে উক্ত অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে এবং মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হইবার পর উক্ত অন্তর্বর্তীকালীন উন্নয়ন প্রকল্প কার্যকর থাকিবে না।

21.২১। স্থানীয় পরিকল্পনা

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি স্থানীয় পরিকল্পনা ২১। (১) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, নৌ, বিমান, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ বা অন্য কোনো সংস্থার বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বা কোম্পানি মহাপরিকল্পনার সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া উহাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য উন্নয়ন ও নির্মাণ পরিকল্পনা সম্পর্কিত স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে এবং উহা অবগতির জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অবহিত হইবার পর কর্তৃপক্ষ উহার মতামত, যদি থাকে, বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট প্রেরণ করিবে।

22.২২। ভূমি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইমারত পরিবর্তন বা অপসারণের ক্ষমতা

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি ভূমি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইমারত পরিবর্তন বা অপসারণের ক্ষমতা ২২। যদি কর্তৃপক্ষের নিকট জনস্বার্থে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো ভূমির ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা বা শর্ত আরোপ করা সমীচীন অথবা কোনো ইমারত, পূর্তকার্য, কারখানা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন বা অপসারণ করা সমীচীন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উক্তরূপ কার্য করিবার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

23.২৩। ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন ২৩। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহাপরিকল্পনা বা কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে কোনো ব্যক্তি স্থানচ্যুত বা বাস্তুচ্যুত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তিকে বিদ্যমান আইন বা বিধি-বিধান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

24.২৪। রাস্তার প্রশস্ততা

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি রাস্তার প্রশস্ততা ২৪। কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার রাস্তার প্রশস্ততা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

25.২৫। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ভূমি ও ইমারত ন্যস্তকরণ

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ভূমি ও ইমারত ন্যস্তকরণ ২৫। (১) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন কোনো ভূমি, ইমারত, রাস্তা, চত্বর বা উহার কোনো অংশবিশেষ কর্তৃপক্ষের কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হইলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত ভূমি, ইমারত, রাস্তা বা উহার অংশবিশেষ উহার অধীন ন্যস্ত করিবার জন্য উক্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নোটিশ প্রদান করিবে এবং তদনুসারে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ভূমি, ইমারত, রাস্তা, চত্বর বা উহার অংশবিশেষ কর্তৃপক্ষের অধীন ন্যস্ত হইবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রাস্তা, চত্বর বা উহার কোনো অংশবিশেষ কর্তৃপক্ষের অধীন ন্যস্ত হইলে উক্ত রাস্তা, চত্বর বা উহার অংশবিশেষের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে না। (৩) রাস্তা, চত্বর বা উহার অংশবিশেষ ব্যতীত অন্য কোনো ভূমি বা ইমারত উপ-ধারা (১) এর অধীন কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্ত হইলে, যে উদ্দেশ্যে উক্ত ভূমি বা ইমারত অধিগ্রহণ করা হইয়াছিল উক্ত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হইলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কোনোরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে না: তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে উক্ত ভূমি বা ইমারত ব্যবহার করা হইলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে এবং ইমারতের ক্ষেত্রে সাধারণ হারে উহার উপর কর আরোপযোগ্য হইবে। (৪) এই ধারার অধীন গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে বা বিরোধ দেখা দিলে উহা ধারা ৬৪ এর বিধান অনুসারে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

26.২৬। সমাপ্ত প্রকল্পের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট ন্যস্তকরণ

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি সমাপ্ত প্রকল্পের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট ন্যস্তকরণ ২৬। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মহাপরিকল্পনা বা অন্তর্বর্তীকালীন কোনো প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হইবার পর কর্তৃপক্ষ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত প্রকল্পের অধীন সমাপ্ত অবকাঠামো, যথা- উদ্যান, রাস্তা, নর্দমা এবং অনুরূপ অন্যান্য সেবা ও সুবিধাসমূহ স্থানীয় কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ন্যস্ত করিতে পারিবে।

27.২৭। সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন প্রকল্প বা সম্পত্তি হস্তান্তর

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন প্রকল্প বা সম্পত্তি হস্তান্তর ২৭। (১) সরকার, কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে সরকারি কোনো সংস্থা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত বা অনুমোদিত কোনো উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারের মালিকানাধীন কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ বরাবর হস্তান্তর করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন হস্তান্তরিত কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের অবাস্তবায়িত কার্য পূর্ববর্তী অনুমোদিত আকারে অথবা, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনা বা উন্নয়ন প্রকল্পের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন করিয়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়ন করা যাইবে।

28.২৮। কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্তকৃত সরকারি রাস্তা, নর্দমা, ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণ

তৃতীয় অধ্যায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্তকৃত সরকারি রাস্তা, নর্দমা, ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণ ২৮। কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্তকৃত সকল রাস্তা, চত্বর, ইমারত, ভূমি বা উহার অংশবিশেষ কর্তৃপক্ষ নিজে বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সহিত যৌথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিবে।

29.২৯। ভূমি ক্রয় বা লিজ গ্রহণের ক্ষমতা

চতুর্থ অধ্যায় ভূমি ক্রয়, লিজ, অধিগ্রহণ, উন্নয়ন কর, ইত্যাদি ভূমি ক্রয় বা লিজ গ্রহণের ক্ষমতা ২৯। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যেকোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি অথবা ভূমির সংশ্লিষ্ট স্বার্থ ক্রয়, লিজ বা বিনিময়ের মাধ্যমে উহা অর্জন করিতে বা অধিকারে রাখিতে পারিবে।

30.৩০। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষমতা

চতুর্থ অধ্যায় ভূমি ক্রয়, লিজ, অধিগ্রহণ, উন্নয়ন কর, ইত্যাদি ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষমতা ৩০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো ভূমি বা ভূমি সংশ্লিষ্ট স্বার্থ অধিগ্রহণ করিবার প্রয়োজন হইলে উহা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।

31.৩১। ভূমি বিলি-বন্দেজ

চতুর্থ অধ্যায় ভূমি ক্রয়, লিজ, অধিগ্রহণ, উন্নয়ন কর, ইত্যাদি ভূমি বিলি-বন্দেজ ৩১। (১) ধারা ২৯ এর অধীন অর্জিত ভূমি বা ধারা ৩০ এর অধীন অধিগ্রহণকৃত ভূমি বা ভূমি সংশ্লিষ্ট স্বার্থ কর্তৃপক্ষ নিজ কর্তৃত্বে রাখিতে পারিবে অথবা বিক্রয়, লিজ বা বিনিময়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন লিজ প্রদানকৃত ভূমি, প্লট, ফ্ল্যাট বা স্পেস লিজগ্রহীতার অনুকূলে হস্তান্তর পরবর্তীকালে বিক্রয়, দান বা হেবামূলে হস্তান্তর, নামজারি, আমমোক্তারনামা, রূপান্তর বা অনুরূপ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও হারে ফি আদায় করিতে পারিবে।

32.৩২। উন্নয়ন ফি ধার্যের ক্ষমতা

চতুর্থ অধ্যায় ভূমি ক্রয়, লিজ, অধিগ্রহণ, উন্নয়ন কর, ইত্যাদি উন্নয়ন ফি ধার্যের ক্ষমতা ৩২। (১) কর্তৃপক্ষ, উহার কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে উক্ত এলাকার ভূমির মূল্য বৃদ্ধি পাইলে বা পাইবে বলিয়া বিবেচনা করিলে উক্ত ভূমির মালিক বা ভূমির স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ ব্যক্তির উপর ভূমির মূল্য বৃদ্ধির অনুপাতে উন্নয়ন ফি ধার্য করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত উন্নয়ন ফি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ধার্য ও আদায় করা যাইবে।

33.৩৩। মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারে বিধি-নিষে

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারে বিধি-নিষে ৩৩। (১) মহাপরিকল্পনায় চিহ্নিত বা উল্লিখিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো ভূমি ব্যবহার করা যাইবে না। (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি ১ (এক) বৎসর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

34.৩৪। ইমারত নির্মাণ, জলাধার খনন, চালা অথবা উঁচু ভূমি, ইত্যাদি বিষয়ে বিধি-নিষেধ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি ইমারত নির্মাণ, জলাধার খনন, চালা অথবা উঁচু ভূমি, ইত্যাদি বিষয়ে বিধি-নিষেধ ৩৪। (১) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার পর, কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোনো ইমারত নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলাধার খনন বা পুনঃখনন কিংবা চালা বা উঁচু ভূমি কাটা যাইবে না। (২) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় কোনো ইমারত বা স্থাপনা নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলাধার খনন বা পুনঃখননের জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফিসহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী, মহাপরিকল্পনার সহিত সংগতি রাখিয়া, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, উক্তরূপ কাজের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৩১ নং আইন) এর ধারা ৪ এর অধীন ঘোষিত পর্যটন সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় সাধন করিয়া কোনো ইমারত বা স্থাপনা নির্মাণ বা কৃত্রিম জলাধার খনন, ইত্যাদির অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে। (৩) যদি কর্তৃপক্ষের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, যে সকল শর্তে উপ-ধারা (২) এর অধীন অনুমতি প্রদান করা হইয়াছিল উহা প্রতিপালন করা হয় নাই বা ভঙ্গ করা হইয়াছে বা ভঙ্গ করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হইয়াছে, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত অনুমতি বাতিল করিতে পারিবে। (৪) এই ধারার কোনো কিছুই বিদ্যমান ইমারত বা স্থাপনার মেরামত বা উহাদের সাধারণ মেরামত কার্য পরিচালনা কিংবা জলাধার সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না। (৫) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পর্যটন এলাকায় মহাপরিকল্পনা বা উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সহিত অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার মধ্যে কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে উহা ধারা ৬৪ এর বিধান অনুসারে নিষ্পত্তি করিতে হইবে। (৬) যদি কোনো ব্যক্তি এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

35.৩৫। কৃত্রিম জলাধার খনন, ইত্যাদি স্থগিতকরণ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি কৃত্রিম জলাধার খনন, ইত্যাদি স্থগিতকরণ ৩৫। (১) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, খননাধীন কোনো কৃত্রিম জলাধারের খননকার্য স্থগিত বা বন্ধ করিবার জন্য উহার মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে। (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং পরবর্তী প্রতিবার একই অপরাধের ক্ষেত্রে অন্যূন ২ (দুই) বৎসর ও অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড বা অন্যূন ২ (দুই) লক্ষ টাকা ও অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

36.৩৬। নিচু ভূমি ভরাট বা প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্তের উপর বিধি-নিষেধ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি নিচু ভূমি ভরাট বা প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্তের উপর বিধি-নিষেধ ৩৬। (১) কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত উহার আওতাধীন কোনো এলাকার নিচু ভূমি ভরাট বা উঁচু অথবা কোনো প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত বা কোনো নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়, পুকুর, ডোবা, প্রাকৃতিক জলাধার, ইত্যাদির পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা যাইবে না। (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি প্রথমবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে এবং পরবর্তী প্রতিবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অন্যূন ২ (দুই) বৎসর ও অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড বা অন্যূন ২ (দুই) লক্ষ টাকা ও অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

37.৩৭। খেলার মাঠ, উন্মুক্ত মাঠ, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি খেলার মাঠ, উন্মুক্ত মাঠ, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন ৩৭। কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৩৬ নং আইন) প্রযোজ্য হইবে।

38.৩৮। সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি অপসারণের উপর উপর বিধি-নিষেধ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি অপসারণের উপর উপর বিধি-নিষেধ ৩৮। (১) কোনো ব্যক্তি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতীত কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থাপিত কোনো সীমানা প্রাচীর, দেয়াল, সীমানা খুঁটি, নিরাপত্তা বেষ্টনী, গ্রোথিত কোনো বার, চেইন বা পোস্ট অথবা কোনো বাতি অপসারণ করিতে পারিবে না। (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

39.৩৯। ইমারত অথবা দেয়াল অপসারণের উপর বিধি-নিষেধ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি ইমারত অথবা দেয়াল অপসারণের উপর বিধি-নিষেধ ৩৯। কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে যদি কোনো ইমারত বা দেয়ালের মালিক কর্তৃপক্ষের সহিত স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত ইমারত বা দেয়াল অপসারণ না করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি পাকা ইমারত বা দেয়ালের জন্য অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে এবং কাঁচা ইমারত বা দেয়ালের জন্য অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

40.৪০। অবৈধ নির্মাণ অপসারণ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি অবৈধ নির্মাণ অপসারণ ৪০। যদি আদালত কোনো ব্যক্তিকে কোনো দেয়াল, ইমারত বা স্থাপনা অপসারণের আদেশ প্রদান করে এবং উক্ত ব্যক্তি যদি আদালত কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত দেয়াল, ইমারত বা স্থাপনা অপসারণ না করেন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উহা অপসারণ করিতে পারিবে এবং উক্ত অপসারণের জন্য ব্যয়িত অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করিলে উহা Public Demands Recovery Act, 1913 (Act No.III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করা যাইবে।

41.৪১। অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করিয়া ভবন নির্মাণের উপর বিধি-নিষেধ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করিয়া ভবন নির্মাণের উপর বিধি-নিষেধ ৪১। (১) কর্তৃপক্ষ, উহার আওতাধীন এলাকায় অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করিয়া স্থাপনা নির্মাণ করিলে, উক্ত নির্মাণ কার্য স্থগিত বা কোনো নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ করিবার জন্য উহার মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নির্দেশ অমান্য করিয়া কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত নির্মাণ কাজ স্থগিত না করিলে বা ব্যত্যয়কৃত অংশ অপসারণ না করিলে, কর্তৃপক্ষ, স্ব-উদ্যোগে উহা অপসারণ করিতে পারিবে এবং অপসারণ কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সমুদয় অর্থের দ্বিগুণ অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তির নিকট হইতে আদায় করা হইবে। (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করিলে Public Demands Recovery Act, 1913 (Act. No.III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করা যাইবে।

42.৪২। অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ ৪২। (১) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ করা যাইবে না। (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মাণকারী অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

43.৪৩। অননুমোদিত নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ ও উহাতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি অননুমোদিত নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ ও উহাতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ ৪৩। (১) কর্তৃপক্ষ, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অননুমোদিত নির্মাণাধীন কোনো ইমারতের নির্মাণ কার্য স্থগিত বা কোনো নির্মাণাধীন স্থাপনা অপসারণ করিবার জন্য উহার মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্মাণাধীন কোনো ইমারতের মালিককে নির্দেশ প্রদান করা হইলে উক্ত ইমারতের মালিক নহে এইরূপ কোনো ব্যক্তি সেখানে বসবাস করিলে কর্তৃপক্ষ, তাহাকেও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ইমারত ত্যাগ করিবার জন্য নোটিশ প্রদান করিতে পারিবে। (৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, নির্মাণ কাজ স্থগিত করা না হইলে বা সংশ্লিষ্ট স্থাপনা অপসারণ করা না হইলে অথবা সংশ্লিষ্ট বসবাসকারী উক্ত ইমারত পরিত্যাগ না করিলে কর্তৃপক্ষ, স্ব-উদ্যোগে, উক্ত ইমারত বা স্থাপনা অপসারণ করিতে অথবা সংশ্লিষ্ট বসবাসকারীকে উচ্ছেদ করিতে পারিবে এবং উক্ত অপসারণ বা উচ্ছেদ কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সমুদয় অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তির নিকট হইতে নগদে আদায় করিবে। (৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করিলে উহা Public Demands Recovery Act, 1913 (Act No.III of 1913) এর বিধান অনুযায়ী সরকারি দাবি হিসাবে আদায় করা যাইবে। (৫) উপ-ধারা (১) এর বিধান বিদ্যমান ইমারত সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না। (৬) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইলে উক্ত ব্যর্থতা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

44.৪৪। কর্তৃপক্ষের কার্য সম্পাদনকালে নিরাপত্তা বেষ্টনী ইত্যাদি, অপসারণ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের কার্য সম্পাদনকালে নিরাপত্তা বেষ্টনী ইত্যাদি, অপসারণ ৪৪। (১) আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতীত, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা উহার নির্দেশনা অনুসারে কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় কোনো কার্যসম্পাদনের সময় স্থাপিত কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা তীরবর্তী খুঁটি বা গ্রোথিত কোনো বার বা চেইন বা পোস্ট বা অনুরূপ কোনো কিছু অপসারণ বা কোনো বাতি সরাইয়া নেওয়া যাইবে না। (২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

45.৪৫। কর্তৃপক্ষের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসাধুভাবে কোনো কর্মকাণ্ডে সহায়তা

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসাধুভাবে কোনো কর্মকাণ্ডে সহায়তা ৪৫। কর্তৃপক্ষের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো অসাধু কাজ করিয়া বা বেআইনিভাবে কোনো কাজ করা হইতে বিরত থাকিয়া, এই আইনের অধীন এইরূপ কোনো অপরাধ করিবার ব্যাপারে সাহায্য করেন বা করিবার সুযোগ করিয়া দেন, যাহা প্রতিরোধ করা বা উদঘাটন করা অথবা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের গোচরে আনয়ন করা তাহার দায়িত্ব ছিল, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধ করিবার বিষয়ে সহায়তা করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

46.৪৬। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইমারত নির্মাণের অনুমতি প্রদানে বিধি-নিষেধ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইমারত নির্মাণের অনুমতি প্রদানে বিধি-নিষেধ ৪৬। (১) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার পর, কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার মধ্যে কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন বিষয়সমূহ, যেমন- কোনো ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদন, জলাধার খনন বা পুনঃখননের অনুমতি প্রদান করিবে না: তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমতি প্রদানের বিশেষ প্রয়োজন হইলে এতদ্‌বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে। (২) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী কোনো ইমারত নির্মাণ, জলাধার বা জলাধার খননের অনুমতি প্রদান করিলে তাহাকে উক্ত ইমারত বা জলাধারের নকশাসহ তাহার স্বাক্ষরিত উক্ত অনুমতিপত্রের একটি অনুলিপি ইমারত বা জলাধার যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার মেয়র বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহীর নিকট প্রেরণ করিতে হইবে। (৩) এই আইন কার্যকর হইবার পর, কর্তৃপক্ষ ব্যতীত কোনো পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন উপ-ধারা (১) এর ব্যত্যয় ঘটাইয়া কোনো অনুমতি প্রদান করিলে উহা বে-আইনি ও ক্ষমতা বহির্ভূত হিসাবে গণ্য হইবে বা অনুরূপ অনুমতির মাধ্যমে কৃত কার্যক্রম অকার্যকর ও অননুমোদিত বলিয়া গণ্য হইবে।

47.৪৭। চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মচারী কর্তৃক কর্তৃপক্ষের শেয়ার, স্বার্থ বা চুক্তিতে অংশগ্রহণে বিধি-নিষেধ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মচারী কর্তৃক কর্তৃপক্ষের শেয়ার, স্বার্থ বা চুক্তিতে অংশগ্রহণে বিধি-নিষেধ ৪৭। (১) চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মচারী কর্তৃপক্ষের কোনো পদে বহাল থাকাকালীন কর্তৃপক্ষের ব্যবসা-বাণিজ্য বা কোনো লেনদেন বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো শেয়ার বা স্বত্ব বা দখল গ্রহণ করিবেন না। (২) চেয়ারম্যান, সদস্য বা কোনো কর্মচারী উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

48.৪৮। ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা ৪৮। এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিপরীতে ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপন করা যাইবে না।

49.৪৯। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ৪৯। এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী বা অন্য কোনো ব্যক্তি আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে এবং আদালত উক্ত অভিযোগ আমলে গ্রহণ করিবে।

50.৫০। বিচার, ইত্যাদি

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি বিচার, ইত্যাদি ৫০। (১) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে। (২) Code of Criminal Procedure, 1898 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন- (ক) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে; এবং (খ) প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনে বর্ণিত যেকোনো অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।

51.৫১। অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা ৫১। এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য এবং জামিনযোগ্য হইবে।

52.৫২। মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার ৫২। এই আইনের অন্য কোনো বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত করিয়া বিচার করা যাইবে।

53.৫৩। কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

পঞ্চম অধ্যায় বিধি-নিষেধ, অপরাধ, দণ্ড, বিচার, ইত্যাদি কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন ৫৩। (১) কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত কোম্পানির এইরূপ মালিক, পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, নির্বাহী পরিচালক, অন্য কোনো কর্মচারী উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন। (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত সত্তা হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানিকে পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।

54.৫৪। কর্মচারী নিয়োগ

ষষ্ঠ অধ্যায় কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি কর্মচারী নিয়োগ ৫৪। (১) কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে। (২) কর্মচারীদের নিয়োগ এবং চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

55.৫৫। কর্মচারীর অবসর গ্রহণ বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অবসর প্রদান

ষষ্ঠ অধ্যায় কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি কর্মচারীর অবসর গ্রহণ বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অবসর প্রদান ৫৫। (১) কর্তৃপক্ষের একজন কর্মচারী তাহার বয়স ৫৯ (উনষাট) বৎসর পূর্ণ হইলে এবং কর্তৃপক্ষের একজন মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারী তাহার বয়স ৬০ (ষাট) বৎসর পূর্ণ হইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবসর গ্রহণ করিবেন। (২) চাকরির মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বৎসর পূর্ণ হইবার পর, একজন কর্মচারী, যেকোনো সময়, অবসর গ্রহণের অভিপ্রায় প্রকাশ করিয়া অবসর গ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে উক্ত অভিপ্রায় অবসর গ্রহণের তারিখের অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে দাখিল করিতে হইবে। (৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত অভিপ্রায় চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং তাহা সংশোধন বা প্রত্যাহারযোগ্য যাইবে না। (৪) কোনো কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বৎসর পূর্ণ হইবার পর, যেকোনো সময়, কর্তৃপক্ষ, জনস্বার্থে, প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিলে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনোরূপ কারণ না দর্শাইয়া তাহাকে চাকরি হইতে অবসর প্রদান করিতে পারিবে।

56.৫৬। আন্তঃকর্তৃপক্ষ বদলি

ষষ্ঠ অধ্যায় কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি আন্তঃকর্তৃপক্ষ বদলি ৫৬। সরকার, জনস্বার্থে, কর্তৃপক্ষের কর্মচারী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্তৃপক্ষসমূহের কর্মচারীগণের মধ্যে পারস্পরিক বদলি ও পদায়ন করিতে পারিবে।

57.৫৭। জনসেবক

ষষ্ঠ অধ্যায় কর্মচারী নিয়োগ, ইত্যাদি জনসেবক ৫৭। চেয়ারম্যান, সদস্য এবং কর্মচারীগণ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে জনসেবক (Public servant) বলিয়া গণ্য হইবেন।

58.৫৮। তহবিল

সপ্তম অধ্যায় তহবিল, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি তহবিল ৫৮। (১) নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তহবিল নামে কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:- (ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরি বা অনুদান; (খ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো দেশি বা বিদেশি সংস্থা বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; (গ) স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত অনুদান; (ঘ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো দেশি বা বিদেশি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত ঋণ; (ঙ) কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয়; (চ) কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত বা আদায়কৃত ফি, চার্জ ইত্যাদি; (ছ) বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত অর্থ; এবং (জ) অন্য কোনো বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ। (২) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরি ব্যতীত কর্তৃপক্ষের তহবিলের অন্যান্য অর্থ তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা পরিচালনা করিতে হইবে। (৩) চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সম্মানি এবং কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যয় তহবিল হইতে নির্বাহ করা যাইবে: তবে শর্ত থাকে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এতদ্‌সংশ্লিষ্ট প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করিতে হইবে। (৪) কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক অর্থবৎসরে উহার সকল ব্যয় নির্বাহের পর চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখিয়া তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে জমা প্রদান করিবে। ব্যাখ্যা।—এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (President’s Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j)-তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank।

59.৫৯। বার্ষিক বাজেট

সপ্তম অধ্যায় তহবিল, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি বার্ষিক বাজেট ৫৯। কর্তৃপক্ষ সরকার কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত বৎসরে সরকারের নিকট হইতে রাজস্ব অনুদান বা উন্নয়ন মঞ্জুরি বাবদ কর্তৃপক্ষের কোনো বাজেট সহায়তার প্রয়োজন রহিয়াছে কিনা তাহাও উল্লেখ থাকিবে।

60.৬০। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা

সপ্তম অধ্যায় তহবিল, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা ৬০। (১) কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে উহার হিসাবরক্ষণ এবং হিসাব বিবরণী প্রস্তুত করিবে। (২) বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রতি বৎসর কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন। (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা ছাড়াও Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President’s Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b)-তে সংজ্ঞায়িত চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট দ্বারা কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষা করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট নিয়োগ করিতে পারিবে। (৪) কর্তৃপক্ষের হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব-নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিয়োগকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কর্তৃপক্ষের সকল রেকর্ড, দলিলাদি, বার্ষিক ব্যালেন্স শিট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার বা অন্যবিধ সম্পত্তি, ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান, সদস্য বা কর্তৃপক্ষের যেকোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন। (৫) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকারের জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। (৬) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর বিধানাবলি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অনুসরণ করিতে হইবে।

61.৬১। বকেয়া আদায়

সপ্তম অধ্যায় তহবিল, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি বকেয়া আদায় ৬১। এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের নিকট কর্তৃপক্ষের কোনো অর্থ পাওনা থাকিলে উহা সরকারি দাবি হিসাবে Public Demands Recovery Act, 1913 (Act No.III of 1913) এর বিধান অনুসারে আদায়যোগ্য হইবে।

62.৬২। প্রতিবেদন

সপ্তম অধ্যায় তহবিল, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি প্রতিবেদন ৬২। (১) কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক অর্থবৎসর সমাপ্ত হইবার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে উহার আয়, ব্যয় ও স্থিতির আর্থিক বিবরণসহ উক্ত বৎসরে সম্পাদিত কার্যাবলির উপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিবে। (২) সরকার, প্রয়োজনে, কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে যেকোনো সময় কর্তৃপক্ষের যেকোনো বিষয়ের উপর প্রতিবেদন ও বিবরণী আহ্বান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

63.৬৩। ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা

সপ্তম অধ্যায় তহবিল, হিসাবরক্ষণ, ইত্যাদি ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা ৬৩। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে।

64.৬৪। বিরোধ নিষ্পত্তি

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ বিরোধ নিষ্পত্তি ৬৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের অধীন এলাকায় মহাপরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, অন্তর্বর্তীকালীন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অথবা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত অথবা কোনো কার্যক্রমের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সহিত অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উহা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে আপোস মীমাংসা না হইলে, কর্তৃপক্ষ উক্ত বিরোধের বিষয়টি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে এবং সরকার উক্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ, বা ক্ষেত্রমত, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সহিত পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উহা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

65.৬৫। প্রবেশাধিকার

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ প্রবেশাধিকার ৬৫। (১) চেয়ারম্যান বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী, এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের বিধান সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারাধীন এলাকার কোনো ভূমিতে নিম্নবর্ণিত যেকোনো উদ্দেশ্যে প্রবেশ করিতে পারিবেন, যথা:- (ক) কোনো অনুসন্ধান, জরিপ, পরীক্ষা, মূল্যায়ন বা তদন্ত; (খ) ভূমির স্তর গ্রহণ; (গ) নিম্নস্তরের মাটি খনন বা ছিদ্রকরণ; (ঘ) পূর্ত কাজের চৌহদ্দি ও সীমারেখা নির্ধারণ; (ঙ) চিহ্ন বা নালা কাটিয়া উক্তরূপ স্তর চৌহদ্দি ও সীমারেখা চিহ্নিতকরণ; বা (চ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যেকোনো কাজ। (২) সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিক বা দখলদারকে উক্ত ভূমিতে প্রবেশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্যূন ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টা পূর্বে নোটিশ প্রদান করিয়া সূর্যোদয়ের পর ও সূর্যাস্তের পূর্বে যেকোনো সময় উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রবেশ করা যাইবে। (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো কার্যের ফলে যদি ভূমির কোনো ক্ষতি হয়, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবে।

66.৬৬। ক্ষমতা অর্পণ

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ ক্ষমতা অর্পণ ৬৬। কর্তৃপক্ষ, উহার কোনো ক্ষমতা, প্রয়োজনে, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, চেয়ারম্যান, সদস্য বা উহার কোনো কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।

67.৬৭। ক্ষতিপূরণ প্রদানে কর্তৃপক্ষের সাধারণ ক্ষমতা

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ ক্ষতিপূরণ প্রদানে কর্তৃপক্ষের সাধারণ ক্ষমতা ৬৭। কর্তৃপক্ষ এই আইনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয় নাই এইরূপ ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের কোনো বিধানের অধীন কর্তৃপক্ষ, চেয়ারম্যান, সদস্য বা উহার কোনো কর্মচারীর উপর ন্যস্তকৃত দায়িত্ব পালনকালে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তিকে যুক্তিসংগত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে পারিবে।

68.৬৮। নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা ৬৮। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সময় সময়, কর্তৃপক্ষকে যেকোনো নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং কর্তৃপক্ষ উহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবে।

69.৬৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ৬৯। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

70.৭০। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা ৭০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

71.৭১। রহিতকরণ ও হেফাজত

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ রহিতকরণ ও হেফাজত ৭১। (১) নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৩৩ নং অধ্যাদেশ) এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

72.৭২। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

অষ্টম অধ্যায় বিবিধ ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ ৭২। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে। (২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

© 2026 Bangladesh Law Digest (BDLD). This is a convenience mirror. For official texts, refer to the Bangladesh Gazette.